ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

হৃদয় দিয়ে কুরআন বোঝা

হৃদয় দিয়ে কুরআন বোঝাআল কুরআনের বাণী এত সরস এবং প্রাণবন্ত যে তা পাঠে হৃদয় ভরে যায়। বিভিন্ন ভাষা ও বিচিত্র বর্র্ণের মানবসন্তান এর জ্ঞানগর্ভ শব্দতরঙ্গে বিমুগ্ধ হয়ে পড়ে। এর সামঞ্জস্যশীল নীতিনৈতিকতা এবং হৃদয়গ্রাহী আইনবিধান একজন মুসলমানকে আল্লাহর আদেশের প্রতি অনুগত হওয়ার অনুপ্রেরণা দান করে। যারা আল্লাহকে ভয় করে সেই শুদ্ধচিত্ত বান্দারা গভীর মমত্বের সাথে আল্লাহর দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং এর অনুপম নির্দেশনা দ্বারা জীবন পরিচালনা করে। কুরআন থেকে হেদায়েত লাভের জন্য প্রয়োজন উৎকর্ণ শ্রবণ এবং গভীর মনোযোগ।

এর বাণীর মাহাত্ম্য ও নিবিড় নির্দেশনা হৃদয়ঙ্গম করতে নিশ্চুপ এবং গবেষণাধর্মী মননে পাঠ করা দরকার। আল্লাহ পাক বলেন : ‘যখন কুরআন পাঠ করা হয় তখন তোমরা মনোযোগ দিয়ে তা শুনবে এবং চুপ থাকবে যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয়। তোমার প্রতিপালককে সবিনয় ও সশঙ্কচিত্তে অনুচ্চস্বরে প্রতুষ্যে ও সন্ধ্যায় স্মরণ করবে এবং তুমি উদাসীন হবে না।’ (সূরা আল আরাফ : ২০৪-২০৫)।

পবিত্র কুরআনের ব্যাপক সম্প্রচারের কাজে যারা নিয়োজিত, যারা গভীর অভিনিবেশ সহকারে কুরআনের মর্মবাণী আয়ত্ত করে অপরকে শিাদানে তৎপর থাকে তাদেরকে উত্তম মানুষ বলা হয়েছে। যারা শিাদানে নিয়োজিত থাকে তাদের মধ্যে জন্ম নেয় জ্ঞানান্বেষী গবেষক যারা নব নব উদ্ভাবনের দ্বারা মানবজাতিকে সমৃদ্ধ করে। তেমনিভাবে নিয়মিত কুরআন অধ্যয়ন এবং পাঠদানকারীদের মধ্য থেকে জগদ্বিখ্যাত সব কুরআন গবেষক জন্মলাভ করে।

হজরত উসমান রা: থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সা: বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বাপো উত্তম ওই ব্যক্তি যে নিজে কুরআন শিখে এবং অপরকে তা শিা দান করে।’ (বুখারি, মুসলিম)। এ সম্পর্কে অন্য একটি হাদিসে আছে : হজরত উবাইদা মুলাইকি রা: থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সা: বলেছেন, ‘হে কুরআনধারীগণ! তোমরা কুরআনকে বালিশ বানিয়ো না, বরং তেলাওয়াত করার মতো তা তেলাওয়াত করো দিনে ও রাতে। এর প্রচার-প্রসার করো এবং উত্তম সুরে পড়ো। উপরন্তু তাতে যা আছে সেসব সম্পর্কে গবেষণা করবে, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো এবং শিগগিরই পৃথিবীতে এর প্রতিফল পাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ো না। কেননা আখেরাতে এর উত্তম প্রতিফল আছে।’ (বায়হাকি, মিশকাত)।

উপরিউক্ত হাদিসটির বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে সাহাবা কেরামের জীবনে। তারা কুরআনের ইলম সংগ্রহ করার জন্য যে মেহনত ও পরিশ্রম করেছেন তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এ সম্পর্কে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা: বলেন, রাসূল সা:-এর ইন্তেকালের পর আমি এক আনসারি সাহাবিকে বললাম, এখনো তো  অনেক সাহাবি জীবিত আছে, চলুন আমরা তাদের কাছে ইলম আহরণ করি। তিনি জবাব দিলেন, আপনার কি মনে হয় যে, কোন সময় জ্ঞানের বিষয়ে মানুষ আপনার মুখাপেী হবে?’ যা হোক তিনি সম্মত না হওয়ায় একাই আমি এ কাজে নেমে গেলাম। সাহাবায়ে কেরামের কাছে গিয়ে তাদের ইলম অর্জন করতে লাগলাম।

কোনো ব্যক্তির সূত্রে আমার নিকট কোনো হাদিস পৌঁছলে আমি তার দুয়ারে গিয়ে উপস্থিত হতাম। যদি শুনতাম যে, তিনি দুপুরের বিশ্রামে আছেন, তাহলে চাদর বিছিয়ে দরজার সামনে বসে থাকতাম। বাতাস আমাকে ধূলিমলিন করে দিত। যখন ওই ব্যক্তি ঘর থেকে বের হয়ে আমাকে দেখতেন, তখন বলে উঠতেন রাসূল সা:-এর চাচাতো ভাই, কেন কষ্ট করে এসেছেন? খবর পাঠালে আমিই আপনার খেদমতে হাজির হতাম।

আমি বলতাম ‘না, আমার আসাই তো দায়িত্ব। আমি তার কাছে হাদিস জিজ্ঞেস করতাম। এভাবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হতে থাকে। ওই আনসারি সাহাবি অনেক দিন জীবিত ছিলেন। এমনকি তিনি আমাকে এমন অবস্থায় দেখেছেন যে, মানুষ আমার চার দিকে ভিড় করে আছে। তারা আমার কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন করছে। তখন তিনি বললেন, এ যুবকটি আমার চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান ছিল।’ (আল ইসবা, মুসনাদে দারেমি, মুসনাদে হারিস ইবনে আবু উসামা)।

গভীর মনোযোগ দিয়ে কুরআন পাঠের মধ্যে আছে অশেষ কল্যাণ এবং সীমাহীন পুণ্য। কুরআন তার পাঠকারীকে দেয় পার্থিব জীবনের সুখ এবং পরকালের সম্মান ও সফলতার গ্যারান্টি। হজরত আবদুল্লাহ বিন আমর রা: থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সা: বলেছেন, কিয়ামতের দিন সাহেবে কুরআনকে বলা হবে, পাঠ করতে থাকো এবং বেহেশতের ওপরের তলায় উঠতে থাকো। দুনিয়াতে যেমন তুমি ধীরে ধীরে তাজবিদের সাথে আবৃত্তি করতে তেমন সুন্দর করে পড়ো। নিশ্চয়ই তোমার পঠিত আয়াতের শেষ জায়গায় হবে তোমার ঠিকানা।’ (আহমদ, মিশকাত)।

হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত। তিরমিজি শরিফের হাদিসে রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন সাহেবে কুরআন যখন আসবে, তখন কুরআন বলবে হে প্রভু, তুমি তাকে উত্তম বস্ত্র দাও। ফলে তাকে সম্মানের তাজ পরানো হবে। তারপর কুরআন বলবে হে আমার প্রতিপালক, তুমি তাকে আরো বেশি করে দাও। ফলে তাকে সম্মানের সমুজ্জ্বল পোশাক পরানো হবে। পুনরায় কুরআন বলবে প্রভু হে, তুমি তার প্রতি খুশি হয়ে যাও। ফলে আল্লাহ পাক তার প্রতি সন্তুষ্ট হবেন। তারপর তাকে বলা হবে, তুমি কুরআন পড়ো এবং জান্নাতে আরোহণ করতে থাকো। তার পঠিত প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে বাড়ানো হবে একেকটি কল্যাণ অর্থাৎ জান্নাতের মর্যাদা ও সম্মান।’ (তিরমিজি)।

যারা কুরআনকে হৃদয়-মন দিয়ে ভালোবাসে, অবসর সময়গুলোকে কুরআন পাঠের ঝঙ্কার দ্বারা ভরে তোলে এবং ইসলামী ঐতিহ্যের বুনিয়াদ সংহত করার ল্েয গভীর জ্ঞানানুশীলনে নিয়োজিত থাকে, তারাই কুরআন ধারণকারী অর্থাৎ আল্লাহর আহল। হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সা:কে এরশাদ করতে শুনেছি : যে ব্যক্তি আল্লাহ পাকের সাাৎ লাভের আশা রাখে সে যেন আল্লাহর আহলকে সম্মান করে। তখন আরজ করা হলো ইয়া রাসূলুল্লাহ! আল্লাহ পাকের কি কোনো আহল আছে? তিনি এরশাদ করলেন, ‘দুনিয়ায় আল্লাহর আহল হলো তারা, যারা কুরআন পাঠ করে থাকে। জেনে রাখো, যে ব্যক্তি তাদের সম্মান করবে আল্লাহ পাক তাকে সম্মানিত করবেন এবং জান্নাত দান করবেন। আর যে তাদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করবে আল্লাহ পাক তাকে লাঞ্ছিত করবেন এবং দোজখে নিপে করবেন। হে আবু হুরায়রা! কুরআন ধারণকারীর চেয়ে আল্লাহ পাকের দরবারে অধিক মর্যাদাবান আর কেউই নেই। আল্লাহর কাছে নবীগণ ছাড়া কুরআন ধারণকারীর মর্যাদা সব মানুষের চেয়ে উত্তম।

যারা কুরআন নিয়ে গবেষণা করে তারা স্বভাবতই অন্যদের মতো নফল ইবাদত ও জিকিরের ফুরসত পায় না। জিকিরের দ্বারা অন্তরে যে প্রশান্তি আসে তা থেকে কুরআন অধ্যয়নকারী বঞ্চিত হয়, যার জন্য হৃদয়ে বেদনাবোধের সৃষ্টি হয়। এক নিদারুণ শূন্যতায় আত্মা রোদন করতে থাকে। কিন্তু দয়াময় আল্লাহ কুরআন চর্চাকারীর আমলনামায় যাবতীয় নফল ইবাদতের সওয়াব দান করে থাকেন।

হজরত উসমান রা: থেকে বর্ণিত। রাসূল সা: এরশাদ করেছেন : আল্লাহ পাক বলেন, যে ব্যক্তি কুরআন নিয়ে ব্যস্ত থাকার জন্য আমার জিকির এবং আমার কাছে দোয়া করার অবকাশ পায় না তাকে আমি ওইসব লোকের চেয়ে অধিক কিছু দান করি যারা আমার কাছে দোয়া করে থাকে। আর অন্যসব কথার তুলনায় আল্লাহ পাকের কালামের মর্যাদা সেরূপ যেমন সমগ্র সৃষ্টির ওপর আল্লাহ পাকের মর্যাদা।’ (তিরমিজি)।

কুরআনের আয়াত যেমন সহজে মুখস্থ করা যায় তেমনি সামান্য অবহেলার কারণে দ্রুত ভুলে যাওয়াও স্বাভাবিক। রশিতে আটকানো উটের মতো আল কুরআন হৃদয়ের স্মরণমিনার থেকে বিমুক্ত হয়ে অপসৃয়মাণ রোদের সাথে দিগন্তে হারিয়ে যায়। ঘন ঘন আবৃতি ছাড়া কুরআনকে স্মৃতিবদ্ধ করে রাখা বড়ই কঠিন। হজরত আবু মুসা আশয়ারি রা: থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সা: বলেছেন : তোমরা কুরআনের দিকে প্রতিনিয়ত ল রাখবে। ওই সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন! নিশ্চয়ই কুরআন রশিতে বাঁধা উট অপোও পলায়নপর।’ (মুত্তাফাকুন আলাইহি, মিশকাত)।

প্রিয়নবী সা: সাত দিনে একবার কুরআন শরিফ খতম করতেন। হজরত উসমান ও তামিমদারি রা: এক রাকাত নামাজে পবিত্র কুরআন খতম করতেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর এবং আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা: এক রাকাত নামাজে কুরআন শরিফ খতম করতেন। সাদ ইবনুল মনজর ইবনে আওস তিন দিনে কুরআন খতম করতেন। প্রিয়নবী সা: হজরত কাজেম ইবনে সায়াসায়াকে সাত দিনে কুরআন খতম করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। হজরত আবু হানিফা রহ: প্রতি রমজানে ৫৯ বার কুরআন খতম করতেন। কুরআন খতমের এতটা গুরুত্ব প্রদান করা হতো যে এর ভিত্তিতে সাহাবায়ে কেরামদের মধ্যে নামাজের ইমাম ও দলনেতা নির্বাচন করা হতো।

অন্তরের পাপমোচনের অব্যর্থ হাতিয়ার নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত করা। হৃদয়ের শুভ্র স্ফটিক স্বচ্ছ পঙ্কিলতাহীন অবয়ব ধরে রাখতে কুরআন তেলাওয়াতের কোনো বিকল্প নেই। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা: থেকে বর্ণিত, রাসূল সা: বলেছেন : পানি লাগলে লোহায় যেমন মরিচা ধরে তেমনি অন্তরেও মরিচা পড়ে। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! অন্তরের মরিচা দূর করার উপায় কী? রাসূল সা: বললেন : অধিক হারে মৃত্যুর কথা স্মরণ ও কুরআন তেলাওয়াত করলে অন্তরের মরিচা বিদূরিত হয়। (মিশকাত)।

পবিত্র কুরআন যে বিশ্ব মানুষের হেদায়াতের জন্য নাজিলকৃত সত্য গ্রন্থ, দু-একটি দৃষ্টান্ত দ্বারা তা সুস্পষ্টভাবে অনুধাবন করা সম্ভব। সম্পূর্ণ কুফরি অবস্থায় একজন বালক কী করে এর বাণীর প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হয়ে এর হীরকতুল্য চরণগুলো মুখস্থ করে নিতে পারে। হজরত আমর ইবনে সালমা রা: বলেন, তখন আমরা মদিনা যাতায়াতের পথে কোনো এক জায়গায় বসবাস করতাম। যাত্রীদের কাছে আমরা নবী সা:-এর অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইতাম। তারা বলত, তার কাছে নাকি খোদার প থেকে ওহি আসে। অমুক অমুক আয়াত তার ওপর অবতীর্ণ হয়েছে। আমি তখন খুব ছোট ছিলাম। তাদের নিকট যা শুনতাম মুখস্থ করে ফেলতাম। এভাবে ইসলাম গ্রহণের আগেই কুরআনের অনেকটা অংশ আয়ত্ত করে ফেলি।

আরবের লোকেরা ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে মক্কাবাসীদের দিকে তাকিয়ে ছিল। যখন মক্কা বিজয় হলো তখন লোকেরা ইসলাম গ্রহণের জন্য মদিনায় দলে দলে আসতে লাগল। আমার পিতাও কিছু লোকের প্রতিনিধি হয়ে মদিনায় এলেন। হুজুর সা: সবাইকে নামাজ এবং শরিয়তের আহকাম শিা দিয়ে বললেন : তোমাদের মধ্যে যে কুরআন বেশি জানে সেই নামাজের ইমামতি করবে। ঘটনাক্রমে সবচেয়ে বেশি কুরআন আমারই জানা ছিল বলে প্রমাণিত হলো। বড় জামাত এবং জানাজার ইমামতি আমিই করতে লাগলাম। অথচ তখন আমার বয়স মাত্র ছয় বছর ছিল। (বুখারি)।

হজরত জায়েদ বিন সাবিত রা: ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাহাবি। মদিনা মনওয়ারায় ফতোয়া প্রদান, বিচার, ফারায়েজ, কিরাত সব বিষয়ে তিনি প্রথম শ্রেণীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। হুজুর সা:-এর হিজরতের সময় তার বয়স ছিল ১১ বছর। হিজরতের পর সব লোক শিশুদের দোয়া করার জন্য নবী সা:-এর কাছে নিয়ে আসত। তাদের সাথে হজরত জায়েদ রা: এসেছিল। লোকেরা বলল, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! এ বনি নাজ্জারের বালক।’ হুজুর সা: মদিনায় আসার আগেই তিনি ১৭টি সূরা মুখস্থ করেছিলেন।

রাসূল সা: শুনতে চাইলে তিনি সূরায়ে কাফ হতে আবৃত্তি করলেন। দয়াল নবী সা: তার পড়া খুবই পছন্দ করলেন। তখন ইহুদিদের বিভিন্ন কবিলায় যেসব চিঠি পাঠানো হতো তা লিখা হতো তাদের দ্বারাই । এতে হুজুর সা: মোটেই খুশি হতে পারতেন না। একদিন তিনি জায়েদ রা:কে ইহুদিদের ভাষা শিখে নেয়ার জন্য আদেশ করলেন। তিনি মাত্র ১৫ দিনেই তা আয়ত্ত করে ফেললেন। তারপর ইবরানি ভাষার যাবতীয় চিঠিপত্র তিনিই পড়ে শোনাতেন এবং তার উত্তর লিখে দিতেন।

আল কুরআন আল্লাহ পাকের জ্ঞানগর্ভ উপদেশ সংবলিত ঐশী কিতাব। তার উপদেশ এবং বিধান এমন যৌক্তিক এবং চিত্তাকর্ষক যে তা তার স্বাভাবিক বিক্রিয়ায় অন্তরের ব্যাধির প্রতিকার করে। এমন কোনো কঠিন হৃদয় নেই যে কুরআনের সরস ও প্রাণবন্ত উপদেশ শোনার পর ভ্রান্তনীতির অনুসরণ করতে পারে। এটা এমন এক সঞ্জীবনী ধারা যার তরঙ্গ হিল্লোলে মুমিন হৃদয় হেদায়েত ও রহমতের পুলকপ্রভায় সমুজ্জ্বল হয়ে ওঠে। আল্লাহ পাক বলেন : ‘হে মানুষ! তোমাদের প্রতি তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে এসেছে উপদেশ ও তোমাদের অন্তরে যা আছে তার প্রতিকার এবং মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও রহমত। (সূরা ইউনুস : ৫৭)।