ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

আখেরাত বা মরণোত্তর জীবন

মৃত্যুর পর আর কিছুই হবে না কিংবা মৃত্যুর পর আর কোনো জীবন নেই, এ কথার মধ্যে কোনো যুক্তি নেই। বরং যৌক্তিকভাবে এতটুকু বলা যায়, মৃত্যুর পর কী হবে, তা আমরা জানি না। পার্থিব জগতে বহু বিষয় আছে যা আমরা দেখি না, বুঝি না, কিন’ তার অস্তিত্ব স্বীকার করি। আমি একা কেন, বরং সারা দুনিয়ার মানুষও যদি কোনো একটা সত্যকে না দেখার কিংবা না বোঝার কারণে অস্বীকার করে, তা অসত্য হয়ে যায় না।

এমন দাবি করা যায় না যে, সে জিনিসটির অস্তিত্ব নেই অথবা তা থাকতেই পারে না। মাতৃস্নেহ, প্রেম, ভালোবাসা দুনিয়ার কেউ দেখতে পায় না। কিন’ এসবের অস্তিত্ব আমরা কেউ অস্বীকার করি না। কারণ আমরা এ সবের অস্তিত্ব অনুভব ও অনুমান করতে পারি। অনুরূপভাবে মৃত্যু-পরবর্তী জীবনও একজন ধার্মিকের কাছে অনুভব ও উপলব্ধির বিষয়। এ ছাড়া আজ যেটাকে আমরা অবাস্তব বলি, কাল সেটা বাস্তব হয়ে যায়। আজ যেটাকে আমরা অসম্ভব বলি, কাল সেটা সম্ভব হয়ে যায়। আজ যেটাকে আমরা ঠিক বলি, কাল সেটাকে বেঠিক বলি। কিছুকাল আগে চিকিৎসকেরা কলেরা হলে পানি পান করতে নিষেধ করতেন, আজ প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে বলেন। তা হচ্ছে এই কারণে যে, মানুষের জ্ঞান ও উপলব্ধি এক জায়গায় সি’র থাকে না। প্রতিদিনই তা বাড়ছে।

জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে আজ আমরা যেটা উপলব্ধি করতে পারি না, সেটাই কিছু দিন পর আমাদের কাছে সত্য হয়ে দেখা দেয়। মরণোত্তর জীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে আজ যাদের উপলব্ধি হচ্ছে না, কিছু দিন পর যে হবে না, তা গ্যারান্টি দিয়ে বলা যায় না। আমাদের চোখের সামনেই তো অনেক নাস্তিক-আস্তিক হয়ে যায়। সুতরাং মৃত্যু-পরবর্তী জীবন একেবারে নেই, শেষ কথাটি না বলে বরং অধার্মিকেরা এতটুকু বলতে পারে যে, আখেরাত আছে কি নেই তা আমার জানা নেই। যদি থেকে থাকে, তাহলে তো নিজে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হলো এবং তার কথা অনুসরণ করতে গিয়ে অন্যরাও তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হলো। এ বিষয়ে প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে, মরণোত্তর জীবন সম্পর্কে বিশ্বাসীর সংখ্যা অবিশ্বাসীদের চেয়ে বহু গুণ বেশি।

পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করতে পারি। এক ভাগ হচ্ছে প্রত্যক্ষ ঘটনা, যা আমরা সরাসরি দেখতে পারি। অপর ভাগে হচ্ছে অপ্রত্যক্ষ ঘটনা, যা আমরা সরাসরি দেখতে পাই না, অনুমান করতে পারি। অনুমানে জ্ঞাত বিষয় (assumption) থেকে অজ্ঞাত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পৃথিবীর ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে সেসব ঘটনার পশ্চাতে কোনো বুদ্ধিমান সত্তা রয়েছেন, এ অনুমান করা অযৌক্তিক নয়।

পৃথিবীর অনেক ঘটনা অনির্ধারিতভাবে ঘটে। অনেক ঘটনার ব্যাখ্যা বিচারবুদ্ধির অতীত। যেমন মানুষের জন্ম ও মৃত্যু। জন্ম-মৃত্যুতে মানুষের হাত নেই। মানুষ কোন্ সময়ে, কোন্ স’ানে, কোন্ চেহারায় জন্মাবে এতে মানুষের নিজের কোনো হাত বা করণীয় নেই। যদি এসবে মানুষের হাত থাকত তাহলে সবাই চাইত সভ্যতার স্বর্ণযুগে, সুন্দর চেহারা নিয়ে, সমৃদ্ধ দেশ ও পরিবারে জন্মগ্রহণ করতে। নিজের পরিকল্পনামাফিক ইহজীবন ত্যাগ করতে। কিন’ মানুষ এর কোনোটাই পারে না। মানুষ যেমন তার জন্ম-মৃত্যুর কোনো কিছুই করতে পারি না, তেমনি সে পারে না তার মেধা, বুদ্ধি ও প্রতিভা নিজের মতো করে বাড়িয়ে নিতে। এ ক্ষেত্রে জেনেটিক তত্ত্ব যেমন ব্যর্থ, তেমনি বংশ সঞ্চারবাদও এর ব্যাখ্যা দিতে অপারগ। সুতরাং ভাবুক ও চিন্তাশীল দার্শনিকেরা পৃথিবীর ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে এসবের পেছনে কোনো বুদ্ধিময় সত্তাকে খুঁজে পান এবং এ সত্তার কাছে আত্মসমর্পণ করে অবনত মস্তকে মরণোত্তর তথা আখেরাতের ঘটনাবলির ওপর আস’াশীল হন।

(২) হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন প্রভৃতি ধর্মে বিশ্বাসীরা পুনর্জন্মবাদে বিশ্বাস করে। তাদের মতে, মোক্ষ লাভ না করা পর্যন্ত মানুষ নিজস্ব কর্মফল ভোগ করার জন্য বারবার এ দুনিয়ায় দেহ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। অসৎ কাজ করলে পরজন্মে কুকুর, বিড়াল বা অন্য কোনো জন’-জানোয়ার হয়ে জন্ম নেবে অথবা কোনো গাছ কিংবা নিকৃষ্ট স্তরের মানুষ হয়ে জন্মাবে। আর যদি ভালো কাজ করে, তাহলে আরো উঁচু স্তরের হয়ে জন্মাবে। কর্মের প্রকৃতি অনুযায়ী কেউ ব্রাহ্মণ, কেউ ক্ষত্রিয় হয়ে জন্মাবে। হিন্দুমত অনুসারে পৃথিবীর জীবনে মানুষ পাপ-পুণ্য যাই করুক তার ফল ভোগ করতে হয়। মানুষ যখন নিরাসক্ত কর্ম করতে সক্ষম হয়, যখন কোনো প্রকার কামনা-বাসনা, লোভ-লালসা দ্বারা তাড়িত না হয়ে মানুষ কর্ম করে, তখন তার মোক্ষ লাভের পর মৃত্যু হলে তার আর পুনর্জন্মগ্রহণ করতে হয় না। তখন সে ব্রহ্মার সাথে গিয়ে মিলিত হয় এবং পরমানন্দ উপভোগ করে।

এই মতাদর্শে কিছু তাত্ত্বিক অসঙ্গতি রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। প্রথমত, পুনর্জন্মবাদ অনুসারে এই জীবন আগের জীবনের কর্মের ফল। এ জীবনে সুখ-দুঃখ যাই হোক, আগের জন্মের কারণে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- প্রথম জন্ম বা আবির্ভাবটি কোন্ কর্মের ফল ছিল? যদি বলা হয় সবার আগে মানুষ ছিল, তাহলে মেনে নিতে হয়, তারও আগে ছিল জানোয়ার অথবা বৃক্ষ। তা না হলে প্রশ্ন উঠবে মানুষের আকৃতি কোন সৎকর্মের ফলস্বরূপ পাওয়া গিয়েছিল? যদি বলা হয়, সবার আগে জানোয়ার অথবা বৃক্ষ ছিল, তাহলে মেনে নিতে হবে, তারও আগে ছিল মানুষ। তা না হলে প্রশ্ন উঠবে, জানোয়ার কিংবা বৃক্ষের আকৃতি কোন অসৎ কর্মের শাস্তিস্বরূপ পাওয়া গেছে? এ বিশ্বাস অনুসারে সৃষ্টির প্রারম্ভিক রূপ সঠিকভাবে নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। কেননা যেকোনো রূপের আগে অপর এক রূপ থাকা এই মতানুসারে অপরিহার্য, যাতে পরবর্তী রূপকে পূর্ববর্তী রূপসম্পন্ন সৃষ্টির কর্মফল বলে ধরে নেয়া যায়। সুতরাং পুনর্জন্মবাদে বিশ্বাসীদের পক্ষে প্রথম আবির্ভাব এবং প্রথম জীবনের দুঃখ-কষ্টের সুস্পষ্ট এবং সর্বজনগ্রাহ্য ব্যাখ্যা দেয়া কঠিন।

দ্বিতীয়ত, পুনর্জন্মবাদ অনুসারে পূর্বজীবনের কর্মের শাস্তি বা পুরস্কারস্বরূপ আমি এ জীবন পেয়েছি। এখন পূর্বজন্মের কোনো কর্মের জন্য আমি বর্তমান শাস্তি ভোগ করছি তা তো আমি জানি না বা স্মরণ করতে পারছি না। তা যদি আমি জানতে বা বুঝতে না পারি, তাহলে এ শাস্তির অর্থ কী? অনুতপ্ত হওয়ার বা সংশোধিত হওয়ার সুযোগ কোথায়? এমতাবস’ায় এই জীবনের আগেও আমার জীবন ছিল এটা কী করে মেনে নেয়া যায়? সুতরাং এই মতবাদের পক্ষে এর সর্বজনগ্রাহ্য উত্তর দেয়া কঠিন।

তৃতীয়ত, পুনর্জন্মবাদ জীববিজ্ঞানের একটি অতি সাধারণ নিয়ম সদৃশ্য উৎপাদন (like begets like)-এর বিরোধী। ‘সদৃশ্য উৎপাদন’ মতে আমরা দেখি, মানুষ থেকে মানুষের জন্ম হয়, গরু থেকে গরুর জন্ম হয়, বাঘ থেকে বাঘের জন্ম হয়, চিল থেকে চিলের জন্ম হয়। আম থেকে আমগাছের জন্ম হয়, বট থেকে বটগাছের জন্ম হয়। কিন’ পুনর্জন্মবাদ অনুসারে কৃতকর্ম অনুযায়ী মানুষ শঙ্খচিল, তমালবৃক্ষ, কুকুর, শূকর ও সাপের আকৃতিতে জন্মগ্রহণ করে। এ মত মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদাকে হেয় করে ফেলে। এ ছাড়া পুনর্জন্মবাদ বিবর্তনেরও বিরোধী। বিবর্তন ঊর্ধ্বমুখী হয়, নিম্নমুখী নয়। বিবর্তন ক্রমোন্নতির দিকে ধাবিত হয়। মানুষের মানবেতর প্রাণীতে জন্ম এক নিম্নমুখী প্রক্রিয়া। সুতরাং পুনর্জন্মবাদ জীববিজ্ঞানের সাধারণ নিয়ম ‘সদৃশ উৎপাদন’ এবং ‘বিবর্তন’-এর বিরোধী।

(৩) মরণোত্তর জীবন সম্পর্কে তৃতীয় মত হচ্ছে- আখেরাত বা কবরের শান্তি-শাস্তি, কিয়ামত, পুনরুত্থান, আল্লাহর আদালতে উপসি’তি এবং কৃতকর্মের প্রতিদান জান্নাত ও জাহান্নামের ওপর বিশ্বাস। এটা হচ্ছে ইসলাম, ইহুদি, খ্রিষ্টধর্মসহ অন্য নবীদের প্রচারিত বিশ্বাস।

ইসলামের মত অনুসারে পৃথিবীতে মানুষ যেমন ক্ষণস’ায়ী, তেমনি এ মহাবিশ্ব ও এর মধ্যে যা কিছু আছে সবই ক্ষণস’ায়ী। এ জগৎ শূন্য থেকে সৃষ্টি হয়ে ক্ষুদ্রতর অবস’া থেকে সমপ্রসারিত হয়ে বিশাল আকৃতি লাভ করেছে, যা আজো সমপ্রসারিত হচ্ছে। কিন’ একদিন এ জগৎ এবং এর মধ্যসি’ত সব কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। কেবল আল্লাহর সত্তা অবশিষ্ট থাকবে। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা আর এক উচ্চতর পর্যায়ের ও উৎকৃষ্ট মানের জগৎ তৈরি করবেন, যা হবে চিরস’ায়ী। এটা হচ্ছে এমন একটা বিষয়, যার সত্যতা সম্পর্কে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। এ জগৎ যে স’ায়ী নয়, তার প্রমাণ হচ্ছে- যেসব শক্তি এর ভেতর কাজ করে যাচ্ছে, এরা সবাই সীমাবদ্ধ ও একদিন সূর্য শীতল ও জ্যোতিহীন হয়ে যাবে। গ্রহ-উপগ্রহসমূহের মধ্যে ঘটবে সঙ্ঘাত এবং পৃথিবী হয়ে যাবে ধ্বংস।

পুরাতনকে ভেঙে নতুন সৃষ্টি প্রকৃতির একটি স্বাভাবিক নিয়ম। প্রকৃতিতে তা অহরহ ঘটছে। প্রকৃতির এই নিয়মে একদিন বর্তমান জগৎ ধ্বংস হয়ে নতুন জগৎ সৃষ্টি হবে। সুতরাং আখেরাত সম্পর্কিত ইসলামের বিশ্বাস অসম্ভব কিছু নয়। এ ছাড়া যিনি বর্তমান জগৎ সৃষ্টি করেছেন, তাঁর পক্ষে এই পুরনো জগৎ ধ্বংস করে আরো উন্নতমানের চিরস’ায়ী জগৎ সৃষ্টি করা কোনো অসম্ভব বিষয় নয়।

দুনিয়ার জীবনের পর আখেরাতে মানুষকে দ্বিতীয়বার জীবন দান করা হবে। এ বিষয়ে প্রশ্ন হতে পারে, মানুষ মরে গেলে তার দেহ মাটির সাথে মিশে যায়। দেহ মাটি হয়ে যাওয়ার পর তা ধূলিকণায় রূপান্তরিত হয়ে যায়। বাতাস তা দূর থেকে দূরান্তে নিয়ে যায়। এ বিচ্ছিন্ন ও ছড়িয়ে পড়া অংশ শত-সহস্র বছর পর একত্র করে পুনর্জীবন দেয়া কি সম্ভব? অসম্ভব হবে কেন, মানুষ পৃথিবীতে যে জীবন উপভোগ করছে, তা যদি সম্ভব হয়, আখেরাতের জীবনও সম্ভব। যে আল্লাহ তায়ালা এ পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টি করেছেন, জীবন দিয়েছেন, তার পক্ষে অপর কোনো জগতে মানুষকে পুনর্জীবন দান করা অসম্ভব নয়। এ সম্পর্কে চিন্তা করতে আহ্বান জানিয়ে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন : ‘আইয়াহসাবুল ইনসানু আল্লাহ নাজমাআ ইজামাহু। বালা কাদিরিনা আলা আন-নুসাব্বিয়া বানানাহ’ অর্থাৎ ‘মানুষ কী করে মনে করে যে আমি তার অসি’সমূহ একত্র করতে পারব না? বস’ত আমি এর আঙুলের অনুভাগ পর্যন্ত পুনর্বিন্যস্ত করতে সক্ষম’ (৭৫ : ৩-৪)।

এ বিষয়ে কুরআন মজিদে আরো বর্ণিত হয়েছে : ‘কুল ইউহিয়িহাল্লাজি আনশায়াহা আরোয়ালা মাররাতিন ওয়াহুয়া বিকুল্লি খালিকিন আলিম’ অর্থাৎ ‘বলুন, যিনি প্রথমবার সেগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, ‘তিনিই এগুলোর মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করবেন এবং তিনি প্রত্যেকটি সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত’ (৩৬ : ৭৯)।

নতুন জগৎ সৃষ্টি সম্পর্কে কুরআন মজিদে বর্ণিত হয়েছে : ইয়া লাইছাল্লাজি খালাকাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা বিকাদিরিন আলা তাই-ইয়াখ্‌লুকা মিছলাহুম, বালা, ওয়া হুয়াল কাল্লাকুল আলিম’ অর্থাৎ ‘যিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি এসবের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সমর্থ নন? হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ; (৩৬ : ৮১)।

পুনরুত্থান সম্পর্কে একজন নবীর (হজরত ইব্রাহিম আ:) অন্তরের আকাঙ্ক্ষা নিবারণ-সংক্রান্ত একটি ঘটনা পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে এভাবে : ‘যখন ইব্রাহিম বললেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! কিভাবে তুমি মৃতকে জীবিত করো আমাকে দেখাও। তিনি বললেন, তবে কি তুমি তা বিশ্বাস করো না? সে বলল, অবশ্যই বিশ্বাস করি, দেখতে এ জন্য চাইছি, যাতে অন্তরে প্রশান্তি লাভ করতে পারি। তিনি বললেন, তাহলে চারটি পাখি ধরে নাও। পরে সেগুলোকে নিজের পোষ মানিয়ে নাও। অতঃপর সেগুলোর দেহের একেকটি অংশ একেক পাহাড়ের ওপর রেখে দাও। তারপর সেগুলোকে ডাকো, সেগুলো দ্রুতগতিতে তোমার কাছে চলে আসবে। আর জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রবল পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়’ (২ : ২৬০)।

লেখক : মাওলানা এম. আবদুর রব, সাবেক পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন