ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

মিথ্যা একটি জঘন্য অপরাধ

মিথ্যা শুধু ইসলামেই জঘন্য পাপ নয়, বরং পৃথিবীর সব ধর্ম ও নীতিতেই মিথ্যা ভয়াবহ এবং জঘন্যতম অপরাধ বলে ঘৃণিত। সব পাপের মূল হচ্ছে মিথ্যা। এমন কোনো অপরাধ নেই যার ভেতর মিথ্যা উপসি’ত নেই। অথচ এই মিথ্যাকে পুঁজি করেই চলছে বর্তমান বিশ্ব শাসনব্যবস’া। বর্তমান বিশ্বের সব প্রভাবশালী মিথ্যার হাতিয়ার দিয়ে নিরীহদের শোষণ করছে।

শুধু বর্তমান সময়ে নয়, ইতিহাসের পাতা দেখলে জানা যাবে অতীতেও ক্ষমতাবানেরা মিথ্যা চাপিয়ে দিয়ে সাধারণদের ওপর জুলুম চালাত। মিথ্যাচার সম্পর্কে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি নিজে কোনো অন্যায় বা পাপকাজ করে, অতঃপর কোনো নির্দোষ ব্যক্তির ওপর এর দোষ চাপিয়ে দেয় সে তো নিজের মাথায় বহন করে জঘন্য মিথ্যা ও প্রকাশ্য গুনাহ।’ (নিসা-১১২)।

সমাজ, রাষ্ট্রে তথা সারা বিশ্বে মিথ্যা ভয়াবহ ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। যার কারণে কোথাও শানি- নেই। অশানি-র দাবানল মানুষকে তাড়া করছে। মিথ্যার অগ্নিশিখায় সব কিছু গ্রাস করে নিয়েছে। এখন শিক্ষাব্যবস’া মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত। শিক্ষার্থীদের জন্য মিথ্যা ইতিহাস তৈরি করে শেখানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে ডিগ্রিধারীর সংখ্যা বাড়লেও একশ্রেণীর নির্বোধ, অন্ধ জাতি তৈরি হচ্ছে। মিথ্যার কুফল সমপর্কে শিক্ষার্থীদের তেমন কিছু শিখানো হচ্ছে না। যুগে যুগে মুনাফিকেরা ইসলামের বড় ক্ষতি করেছে।

মুনাফিকের অন্যতম লক্ষ্য মিথ্যা কথা বলা। আমাদের দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস’ায় মিথ্যার কুফল সম্পর্কে পাঠ্যপুস-কে তেমন কিছু না থাকায় মুনাফিকের সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে। মিথ্যার পক্ষশক্তি বর্তমান পৃথিবী শাসন করছে। এর ফলে যারা মিথ্যার বিরুদ্ধবাদী তথা ইসলামের পক্ষে যারা কাজ করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যার পক্ষশক্তি নানা অদ্ভুত বানোয়াট অভিযোগ তৈরি করে চলছে। মিথ্যা আজীবন সত্যের বিরুদ্ধে। সত্য প্রতিষ্ঠিত হলে মিথ্যা হারিয়ে যেতে থাকবে। মিথ্যা দিয়ে স’ায়ী কোনো সত্য আদর্শকে ধ্বংস করা যায় না। মিথ্যা দিয়ে সাময়িক মানুষকে কিছু ক্ষতি করা যায়। তবে মিথ্যাবাদীদের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না।

মিথ্যাচার সম্পর্কে হাদিস শরিফে এসেছে- হজরত আবু বাকারাতা রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা নবী করিম সা:-এর দরবারে উপসি’ত ছিলাম। হঠাৎ তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় গুনাহের কথা বলে দেবো না? কথাটা তিনি তিনবার বললেন। অতঃপর তিনি বললেন, তা হচ্ছে আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া কিংবা কথা বলা। হুজুর সা: হেলান দিয়ে বসা অবস’ায় কথাগুলো বলছিলেন। হঠাৎ তিনি কথার গুরুত্ব উপলব্ধি করার নিমিত্ত সোজা হয়ে বসলেন এবং ওই কথাটি বারবার বলতে থাকলেন। এমনকি আমরা মনে মনে বলছিলাম আহ! হুজুর যদি এখন থেমে যেতেন। (বুখারি, মুসলিম)। মহানবী সা: সত্য দিয়ে ইসলামের বিজয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি সর্বদা মিথ্যার বিরুদ্ধে কাজ করতেন। তাই আমাদেরও মিথ্যার বিরুদ্ধে নিরলস কাজ করে যেতে হবে। তবেই আমাদের মধ্যে শানি- ফিরে আসবে।

লেখক : সাইফুল ইসলাম তানভীর