ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

মা-বাবার সেবা

ma-babaআল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত হাজার হাজার নেয়ামত দান করেছেন। আলো, বাতাস, পানি, মানব চক্ষু, কর্ণ দেহের নাসিকা। কত না সুন্দর এ জগৎ, মহান প্রভুর সৃষ্টিতে মা-বাবাই হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার। আমরা মাতা-পিতাকে বুঝে না বুঝে কত না কষ্ট দিই। অথচ তারা আমাদের সুখ-শান্তির জন্য জীবনভর চেষ্টা করেন। লালন-পালন, সন্তান বড় করা, মানুষ করা তাদের এমনই কত না ত্যাগ-তিতিক্ষার পর বড় হয়ে আমরা তাদের জন্য কি-ই বা করতে পারি বা করি?

সন্তানের দুঃখ কষ্ট ঘোচানোর জন্য দু’হাত তুলে শয়নে-স্বপনে-জাগরণে সন্তানের মঙ্গল কামনা করেন মাতা-পিতা। সন্তান যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তিলে তিলে পরিপূর্ণ মানব সন্তান সৃষ্টি হয়। সেই ১০ মাস অসহনীয় কষ্ট সহ্য করতে হয় মাকে। শন্তান যখন জন্মগ্রহণ করে তখনও মায়ের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। দুনিয়াতে আগমনের পর মায়ের মন-প্রাণ উজাড় করে মায়া-মমতা ভালোবাসায় বড় হয়, সন্তান মানুষ হয়। আমরা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মাতা-পিতার প্রতি আমাদের কর্তব্য পূরণে যদি সচেষ্ট হই তবেই আমাদের দোজাহানের কল্যাণ নিশ্চিত হবে ইনশাআল্লাহ। মাতা-পিতা বার্ধক্যে পৌঁছলে সেবা করা অবশ্য কর্তব্য। যে সন্তান মা-বাবার বাধ্যগত হয় তারাই দুনিয়া ও আখিরাতে সাফল্য লাভ করে। সারা রাত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়েও জান্নাত লাভ হবে না যদি কেউ মাতা-পিতাকে উপেক্ষা করে।

আমরা কেউ কোনোদিন মাতা-পিতার ঋণ শোধ করতে পারব না, তাই মা কিসে খুশি হয় সে চেষ্টা করা অবশ্যই করণীয়। মা-বাবা দু’জনই আমাদের কত না ভালোবাসেন, আমরা তাদের একটু ভালোবাসা দিতে যেন কার্পণ্য না করি। আমি নিজেও একজন মা সত্যিকথা বলতে কী আমার সব সুখ ওদের নিয়ে। ওদের সুখ আমার সুখ, ওদের দুঃখ আমার দুঃখ, ওদের হাসিমুখ, ওদের দীর্ঘায়ু, ওদের শান্তি সব চিন্তা-ভাবনা ওদের নিয়েই। সৎ সন্তান, নেক সন্তান সমাজের সম্পদ, দেশের সম্পদ, মাতা-পিতার সম্পদ। মহান প্রভুর কাছে আমরা কামনা করব সবাই যেন নেককার পিতা-মাতা হতে পারি। যাতে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সন্তানরা মানবসম্পদ হতে পারে। সৎ, ধার্মিক ও নেককার হতে পারে। পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা করব যেন আমরা সৎকর্মশীল হতে পারি। মাতা-পিতা যদি ধার্মিক হন সত্যবাদী হন, পরোপকারী হন তবেই আমাদের সন্তান হবে আমাদের গর্ব, সাত রাজার ধন। আমরা সন্তানদের উচ্চ শিক্ষিত করার উচ্চাশা করি, অথচ ধর্ম শিক্ষার ব্যাপারে মোটেই সচেতন নই। পরম করুণাময়ের কাছে আমাদের চাওয়ার অন্ত নেই কিন্তু আমরা কী গভীরভাবে দু’হাত তুলে মোনাজাত করি, হে প্রভু, আমাদের সন্তানদের সৎ, কর্মশীল, ধার্মিক বানাও। তাদের অনুগত হওয়ার তৌফিক দাও। ‘মহান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আমাদের কোনোকিছু হাসিল করার ক্ষমতা নেই। মাতা-পিতার মতো আপনজন পৃথিবীতে আর কেউ নেই। মাতা-পিতাই সন্তানের কাছে অধিক শ্রদ্ধেয়। পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআন মজিদের সূরা বনি ইসরাইলে এরশাদ করেছেন :

তোমরা আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে, যদি তাদের একজন অথবা উভয়েই বার্ধক্যে উপনীত হন, তবে তুমি তাদের প্রতি উহ্’ শব্দটি ও বল না, এবং তাদের তিরস্কার করা না। বরং তাদের সঙ্গে সদালাপ কর এবং আল্লাহর কাছে দোয়া কর হে অল্লাহ মাতা-পিতা আমাকে যেভাবে স্নেহ-যত্নে লালন-পালন করেছেন, তুমি তাদের প্রতি তেমনিভাবে সদয় হও। পিতা-মাতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহ পাকের অসন্তুষ্টি, কাজেই বেহেশতে যেতে হলে অবশ্যই পিতা-মাতার সেবা ও তাদের প্রতি অনুগত থাকতে হবে। মোট কথা, পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য অপরিসীম। আমরা যেন পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য পালনে সচেষ্ট হই, আল্লাহ পাক এ তওফিক আমাদের এনায়েত করুন।

হে আমাদের পরওয়ারদেগার। যেদিন চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশ হবে সেদিন তুমি আমাকে, আমার মাতা-পিতাকে এবং সব ঈমানদারকে ক্ষমা করে দিও।