ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

এখন থেকেই শুরু হোক হজে যাওয়ার প্রস্তুতি

হজ মুসলিম উম্মাহর সর্ববৃহৎ মিলন উৎসব। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। আল্লাহ মহানের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইসলামি শরিয়া মোতাবেক নির্দিষ্ট সময়ে কাবা শরিফ এবং সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো জিয়ারত করার নাম হজ। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নবীপ্রেমী মুসলমান পবিত্র হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা-মদিনার পবিত্র ভূমিতে ছুটে যান। দূরবর্তী দেশের সফর, অচেনা-অপরিচিত স্থান, হজের বিভিন্ন আমল পালন করা এবং দীর্ঘ সময় অবস্থান করা- সব মিলিয়ে প্রত্যেক হাজির ভালো একটি পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। শুদ্ধভাবে পবিত্র হজব্রত পালনের জন্য একটি পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম স্তম্ভ হজ জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৪ অক্টোবর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। এবার যাঁরা হজে যেতে চান, তাঁদের এখনই প্রস্তুতি শুরু করা দরকার। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়া যায়। হজে যেতে চাইলে ২৯ মের মধ্যে নির্ধারিত ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হবে। এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হজ এজেন্সির মাধ্যমে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯১ হাজার ৭৫৮ জন হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যেতে পারবেন। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. বজলুল হক বিশ্বাস জানান, এবার হজে যেতে চাইলে নিজ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট তৈরি করতে হবে। সরকারি বা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যেভাবেই যান না কেন কোথায় এবং কীভাবে থাকবেন, তা আগেই জেনে নেওয়া জরুরি। হজ প্যাকেজে সৌদি আরবে যাওয়া-আসা, মক্কা-মদিনায় থাকা-খাওয়াসহ প্যাকেজ সুবিধাগুলো চুক্তিপত্রে বুঝে নিতে হবে। প্রয়োজনে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করুন। পড়ে, বুঝে, যাচাই করে চুক্তিপত্রে সই করুন। হজের প্রয়োজনীয় তথ্য www.hajj.gov.bd—এ ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

মানসিক প্রস্তুতি
দূরবর্তী দেশে গিয়ে হজব্রত পালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় এবং প্রধান প্রস্তুতি হচ্ছে মানসিক প্রস্তুতি। সর্বপ্রথম একজন হাজিকে মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে। মনে মনে একজন হাজিকে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে যে যত বাধাই আসুক না কেন, হজ আমি পালন করবই ইনশাআল্লাহ। কারণ মানসিক বা আত্মিক প্রস্তুতি সব কাজের মূল ভিত্তি। আর হজব্রত পালনের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে নিয়তের প্রয়োজন তো রয়েছেই।

শারীরিক প্রস্তুতি
হজের ফ্লাইট শুরু হওয়ার এখনো বেশ বাকি। তাই শারীরিকভাবে যাঁরা অসুস্থ বা সফর করার অযোগ্য রয়েছেন, অতিসত্বর চিকিৎসা গ্রহণ করে নিজেকে প্রস্তুত করে তুলুন এবং হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার আগে মেনিনজাইটিস টিকা গ্রহণ বা মেডিক্যাল চেক-আপের বিষয়ে এখন থেকেই ভেবে রাখুন। প্রয়োজন বা সুযোগ হলে আগে থেকেই এ ব্যাপারে প্রস্তুতি গ্রহণ করা ভালো।

হজ পালনে এবার কত টাকা লাগবে
সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি হজ প্যাকেজ রয়েছে। একটি প্যাকেজে হজযাত্রীর খরচ হবে তিন লাখ ৫৪ হাজার ৩১৬ টাকা। অন্যটিতে খরচ হবে দুই লাখ ৯৫ হাজার ৭৭৬ টাকা। এ ছাড়া কোরবানির জন্য প্রতিটি প্যাকেজে আরও খরচ হবে (৫০০ রিয়াল) সাড়ে ১০ হাজার টাকা। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় একাধিক প্যাকেজ রয়েছে। ন্যূনতম প্যাকেজ হলো দুই লাখ ৯৫ হাজার ৭৭৬ টাকা। এ ছাড়া তিন লাখ ৫৪ হাজার টাকা থেকে আরও বেশি টাকার প্যাকেজ রয়েছে।

এজেন্সি সম্পর্কিত একটি পরামর্শ
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত হজ এজেন্সির তালিকা www.haab-bd.com -এ ঠিকানায়ও পাওয়া যাবে। কোন কোন এজেন্সির বিরুদ্ধে সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ রয়েছে, তা যাচাই করুন।হজ প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য তথ্য ঢাকার আশকোনা হজ অফিসে দেওয়া হয়।মক্কায় বাসার দূরত্ব নির্ধারিত হয় কাবা শরিফ থেকে। আর মদিনায় বাসার দূরত্ব মসজিদে নববী থেকে। বাসস্থান কত দূর, তার ওপর নির্ভর করে হজের ব্যয়ের টাকা। অর্থাৎ কাবা শরিফ থেকে বাসার দূরত্ব কম হলে খরচ বেড়ে যাবে। যত বেশি দূরত্ব হবে, খরচও তত কম হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে হজের প্যাকেজ ঠিক করুন। ভাষার ভিন্নতা, নতুন দেশ, নতুন পরিস্থিতির কারণে কিছুসংখ্যক হজযাত্রী সমস্যায় পড়ে থাকেন। কয়েকবার হজ পালন করেছেন—এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, কিছুটা ধারণা থাকলে ও সচেতন হলে অনেক সমস্যা দূর করা যায়।

হজের কার্যসম্পাদনগত প্রস্তুতি
বাংলাদেশ থেকে মোট দুইভাবে হজব্রত পালনের ব্যবস্থা রয়েছে। এক. সরকারিভাবে। দুই. বেসরকারিভাবে। সরকারিভাবে গেলে সরকারি কোনো ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে হজের ফরম সংগ্রহ করে তাদের মাধ্যমে অথবা ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মাধ্যমে আপনার হজে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেন। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার মানে হচ্ছে, সরকার অনুমোদিত কোনো হজ এজেন্সির মাধ্যমে হজে যাওয়া। বেসরকারিভাবে হজ পালনের জন্য প্রথমে ভালো কোনো হজ এজেন্সির কাছে গিয়ে তাদের থেকে হজ এবং এজেন্সির ফরম সংগ্রহ করে তা পূরণ করতে হবে এবং পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। এর পর এজেন্সির বিভিন্ন প্যাকেজ অনুযায়ী নিজের জন্য হজে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এখানে একটি কথা বলে রাখা ভালো, আর তা হলো হজ এজেন্সির সঙ্গে নিজের সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির বিষয়টি একদম খোলামেলা আলোচনা করে নেওয়া উচিত।

সরকারি ব্যবস্থাপনা
প্যাকেজ ১: সৌদি আরবের ভিসা, বিমানে যাওয়া-আসা, মক্কায় কাবা শরিফ থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার ২০০ মিটার ও মদিনায় মসজিদে নববী থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ মিটারের মধ্যে তাসরিয়াযুক্ত (সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের যাচাই করা বাসস্থান) বাসায় থাকার ব্যবস্থা।

প্যাকেজ ২: সৌদি আরবের ভিসা, বিমানে যাওয়া-আসা, মক্কায় কাবা শরিফ থেকে সর্বোচ্চ দুই কিলোমিটার ও মদিনায় মসজিদে নববী থেকে সর্বোচ্চ ৮০০ মিটারের মধ্যে তাসরিয়াযুক্ত বাড়িতে আবাসন।

এ ছাড়া উভয় প্যাকেজে মক্কায় ও মদিনায় সৌদি নিয়ম অনুযায়ী একটি খাট, একটি বেড, একটি বালিশ ও একটি কম্বল (কক্ষ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত হবে, কোনো কোনো কক্ষে অতিরিক্ত পাখা থাকতে পারে), পাঁচ থেকে আটজনের জন্য একটি সংযুক্ত সাধারণ গোসলখানা-শৌচাগার, মিনায় তাঁবুতে প্রত্যেক হাজির জন্য জায়গা, জেদ্দা-মক্কা-মদিনা-মিনা-আরাফাতের ময়দানে যাওয়া-আসার জন্য পরিবহন, মক্কা ও মদিনায় সাধারণ চিকিৎসা, ফ্লাইটের আগে ঢাকার আশকোনা হজ ক্যাম্পে থাকার ব্যবস্থা, হজের আহকাম-আরকান সম্পর্কে নিবিড় প্রশিক্ষণ, বইপুস্তক সরবরাহ প্রভৃতি সুবিধা পাবেন হাজিরা। প্রতি ৪৫ জন হাজির জন্য একজন গাইড নিয়োগ করা হবে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় খরচের খাত
দুই ধরনের প্যাকেজেই প্রতি হজযাত্রীর জন্য বিমানভাড়া এক লাখ ১৯ হাজার ৩৫৪ টাকা, জেদ্দা-মক্কা-মদিনা-মিনা-আরাফাতের যাতায়াত ব্যয়, মিনায় তাঁবু ভাড়া ও মোয়াল্লেম ফি ২৩ হাজার ২৮৯ টাকা, মিনা-আরাফাতে মোয়াল্লেমের অতিরিক্ত খরচ ১৭ হাজার ৮৫০ টাকা, হজ গাইড সাত হাজার ৭০৩ টাকা, মিনা আরাফাতে ট্রেন ভাড়া পাঁচ হাজার ২৫০ টাকা, স্থানীয় সেবামূল্য ৮০০ টাকা, হজ প্রশিক্ষণ ফি ৩০০ টাকা ও আপৎকালীন তহবিল ২০০ টাকা, খাবার খরচ বাবদ ২৯ হাজার ৪০০, ব্যাগ বাবদ এক হাজার ৭০০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি হজযাত্রীর জন্য মক্কা-মদিনায় বাড়িভাড়া একটি প্যাকেজে এক লাখ ৪৮ হাজার ৪৭০ টাকা, অন্য প্যাকেজে ৯১ হাজার ২০৩ টাকা। হজ গাইড একটি প্যাকেজে সাত হাজার ৭০৩ টাকা, অন্য প্যাকেজে ছয় হাজার ৪৩০ টাকা।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় খরচের খাত
হজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য বিমানভাড়া এক লাখ ১৯ হাজার ৩৫৪ টাকা, জেদ্দা-মক্কা-মদিনা-মিনা-আরাফাতের যাতায়াত ব্যয়,মিনায় তাঁবু ভাড়া ও মোয়াল্লেম ফি ২৫ হাজার ২৮৪ টাকা, স্থানীয় সেবামূল্য ৮০০ টাকা, প্রশিক্ষণ ফি ৩০০ টাকা ও আপৎকালীন তহবিল ২০০ টাকা, খাবার খরচ বাবদ ৩০ হাজার ৮৭০ এবং ব্যাগ বাবদ এক হাজার ৭০০ টাকা খরচ হবে। এ ছাড়া মক্কা-মদিনায় বাড়িভাড়া, মিনা-আরাফাতে মোয়াল্লেমের অতিরিক্ত খরচ, মিনা-আরাফাতে ট্রেন ভাড়া, হজ গাইড ও কোরবানির খরচ এজেন্সি প্যাকেজ অনুযায়ী ঠিক করে থাকে।

হজ প্যাকেজে খরচের ভিন্নতা কেন
প্যাকেজে সৌদি আরবে হজের জন্য অবস্থানের মেয়াদ, বিমানের ধরন (সরাসরি না অন্য বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে পৌঁছাবে), মক্কায় বাসার ধরন এবং তা কাবা শরিফ থেকে কত দূর, বাসায় লিফট আছে কি নেই, বাসা না হোটেল, খাবারের ব্যবস্থা আছে বা নেই, ঐতিহাসিক স্থানে বেড়ানোর ব্যবস্থা আছে বা নেই, কোরবানি আছে বা নেই ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে।একইভাবে মদিনার ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য। আবার মিনায় তাঁবুতে বা আজিজিয়ায় থাকা কিংবা না থাকা ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে হজের খরচের টাকার অঙ্ক।

পাসপোর্ট বানাবেন যেখানে এবং যেভাবে
ঢাকায় আগারগাঁওয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। এটিসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মোট ৩৩টি আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে। হজযাত্রীরা নিজ নিজ জেলা অনুযায়ী পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়সহ আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পাসপোর্ট বানাতে পারবেন। এ ছাড়া প্রতিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাসপোর্টের আলাদা শাখা রয়েছে, সেখান থেকেও ওই জেলায় বসবাসকারীরা পাসপোর্ট বানাতে পারবেন। আবেদনপত্রসহ আরও তথ্য www.passport.gov.bd ঠিকানায় পাওয়া যাবে।

হজের আবেদনপত্র
হজের আবেদনপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয়, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দ্বীনি দাওয়াত বিভাগের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, তালিকাভুক্ত ৩৩টি ব্যাংকের শাখা (যেখানে টাকা জমা দিতে হবে) এবং বাংলাদেশ সচিবালয়, ভবন নম্বর ৮, হজ শাখা, কক্ষ নম্বর ১০৩, ঢাকায় হজ অফিস, আশকোনা থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ এবং জমা করা যাবে। এ ছাড়া www.hajj.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে ফরম পূরণ করে ডাউনলোড ও প্রিন্ট আউট নিয়ে স্বাক্ষরসহ ওই সব কার্যালয়ের যেকোনোটিতে জমা দেওয়া যাবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় আবেদনপত্র আগামী ৫ জুনের মধ্যে জমা দিতে হবে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেলে নিজ নিজ এজেন্সি থেকে আবেদন সংগ্রহ এবং আবেদনপত্র ও টাকা জমা দেওয়া যাবে ২৯ মের মধ্যে।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রতিষেধক
হজে যাওয়ার আগে প্রত্যেক হজযাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালসহ বিভিন্ন জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, ঢাকায় সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রতিষেধক নিতে হবে। এ ছাড়া হজের আগে উত্তরা আশকোনা হজ অফিসেও এ কাজ সম্পন্ন করা হয়। প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মেনিনজাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিষেধক টিকা এবং স্বাস্থ্যসনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। হজে যাওয়ার আগে এই স্বাস্থ্যসনদ নিতে হবে। আর ৭০ বছর বা ততোধিক বয়স্ক হজযাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত বোর্ডের বিশেষ স্বাস্থ্যসনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। সৌদি আরবে বিমানবন্দরে পৌঁছে প্রত্যেক হজযাত্রীকে স্বাস্থ্যসনদ, পরিচয়পত্র এবং কবজি বেল্ট বহন করতে হয়। এটি বাধ্যতামূলক। তাই হজের আবেদনপত্রে স্বাস্থ্যসম্পর্কিত তথ্য যথাযথভাবে পূরণ করা জরুরি।

টাকা জমা
টাকা জমা দেওয়ার আগে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীরা এজেন্সিগুলো যাচাই করে নিন। কোনো কোনো এজেন্সির বিরুদ্ধে সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি বা বেসরকারি ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী নির্ধারিত ৩৩ ব্যাংকের শাখায় টাকা জমা দিন। রসিদ ছাড়া কাউকে টাকা দেবেন না।

হজের টাকা কোন ব্যাংকে জমা দেবেন
হজের ব্যয় বাবদ টাকা নিম্নলিখিত ব্যাংকের যেকোনো শাখায় জমা দেওয়া যাবে— ১. সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ২. অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড ৩. জনতা ব্যাংক লিমিটেড ৪. রূপালী ব্যাংক লিমিটেড ৫. পূবালী ব্যাংক লিমিটেড ৬. বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক লিমিটেড ৭. রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, রাজশাহী ৮. আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ৯. ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ১০. দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড ১১. প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড ১২. প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড ১৩. মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড ১৪. স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড ১৫. ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড ১৬. ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড ১৭. ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড ১৮. সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ১৯. শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ২০. ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড ২১. ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) লিমিটেড ২২. এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড ২৩. স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক লিমিটেড ২৪. এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড ২৫. যমুনা ব্যাংক লিমিটেড ২৬. আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড ২৭. এবি ব্যাংক লিমিটেড ২৮. ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড ২৯. ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড ৩০. মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড ৩১. এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড ৩২.সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড ৩৩. আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেড।

প্রয়োজনীয় কর্ম সম্পাদন করা
মানুষ সামাজিক জীব। সমাজের প্রতি রয়েছে মানুষের বিভিন্ন দায়বদ্ধতা এবং দায়িত্ব। পবিত্র হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে দূর দেশে গমনের আগে নিজের প্রয়োজনীয় সব কাজ সেরে নেওয়া উচিত। অনেক সময় দেখা যায় যিনি হজে যাচ্ছেন, একটি পরিবার বা একটি প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তি তিনি; সুতরাং হজে যাওয়ার আগে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে তাঁর অনুপস্থিতির সময় পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের কোনো ক্ষতি না হয়। প্রত্যেক হাজিকে এ বিষয়টিও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ আরো কিছু প্রস্তুতি
হজ পালনের উদ্দেশ্যে আপনি যে দেশে যাচ্ছেন, সেখানকার পরিবেশ আপনার অপরিচিত-অচেনা, হজের হুকুম-আহকাম সম্পর্কে আপনি সম্যক অবগত নন, কখন কী করতে হবে তা আপনি ভালো করে জানেন না ইত্যাদি সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য একজন অভিজ্ঞ এবং আলেম হজ গাইড বা মুয়ালি্লমের সঙ্গে হজে যেতে হবে। বেসরকারিভাবে যাঁরা হজে যাবেন, তাঁরা হজ এজেন্সি নির্বাচনের সময় এ বিষয়টির প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখবেন, আপনি যে এজেন্সি থেকে হজে যাচ্ছেন; অভিজ্ঞ কোনো মুয়ালি্লম সেখান থেকে হজে যাচ্ছেন কি না কিংবা তাদের এমন ব্যবস্থাপনা রয়েছে কি না। এ ছাড়া মসজিদের ইমাম কিংবা ভালো আলেমের সঙ্গে আগাম কথা বলে নিতে পারেন। বাংলা ভাষায় রচিত ভালো কোনো লেখকের হজ গাইডও আপনার সঙ্গে রাখতে পারেন।

ব্যবহার্য মালপত্রের প্রস্তুতি
নিত্যব্যবহার্য বিভিন্ন মালপত্রের পাশাপাশি একজন হাজিকে হজের সফরে বেশ কিছু অতিরিক্ত মালপত্র সঙ্গে নিতে হয়। তদুপরি উচিত মালপত্র যথাসম্ভব হালকা রাখা। কারণ গোটা সফরে এই বোঝা আপনাকেই বহন করতে হবে। হজ সফরের প্রয়োজনীয় মালপত্রের একটি তালিকা প্রদত্ত হলো। পাসপোর্ট, টিকিট এবং ডলার সংগ্রহ করা, ভিসা এবং টাকা রাখার জন্য গলার সঙ্গে ঝোলানো ব্যাগ, ইহরামের কাপড় (কমপক্ষে দুই জোড়া) আর মহিলাদের জন্য সাদা সালোয়ার-কামিজ এবং বোরকাই যথেষ্ট। ইহরামের সময় কপালে বাঁধার জন্য ক্যাপ এবং কোমরে বাঁধার বেল্ট, স্পঞ্জের স্যান্ডেল বা জুতা এবং জুতা রাখার জন্য কাপড়ের ব্যাগ, মাথা মুণ্ডনের জন্য ব্লেড বা রেজার, মেসওয়াক, ব্রাশ, পেস্ট, টিস্যু, আয়না, চিরুনি, তেল, সাবান, দাঁতের খিলান, বিছানার চাদর, পাম্পিং বালিশ, গায়ে দেওয়ার চাদর, প্লেট, গ্লাস, ছোট হ্যান্ডব্যাগ, বড় ব্যাগ বা লাগেজ, ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ। পুরুষের এক মাসের জন্য প্রয়োজনীয় লুঙ্গি, গামছা, গেঞ্জি, টুপি, জুতা, মোজা এবং মহিলাদের এক মাসের প্রয়োজনীয় এমন সালোয়ার, কামিজ, ওড়না, শাড়ি, ব্লাউজ, বোরকা, স্যান্ডেল, প্রয়োজনীয় কিতাব বা বই এবং ব্যক্তিগত খরচের জন্য টাকা, কাগজপত্র হেফাজতের জন্য হাজিব্যাগ ও যাবতীয় মালপত্র রাখার জন্য একটি বড় ব্যাগ বা লাগেজ। শুদ্ধ এবং নিয়ম মোতাবেক হজব্রত পালন হোক আপনার অঙ্গীকার।

এক নজরে হজের কার্যক্রম
১. ইহরাম বাঁধা ২. ৭-৮ জিলহজ মিনায় অবস্থান ৩. ৯ জিলহজ সূর্যোদয়ের পরে মিনা থেকে আরাফাতে অবস্থান,সূর্যাস্তের পরে মুজদালিফায় যাওয়া ৪. ৯ জিলহজ মুজদালিফায় রাতযাপন ৫. ১০ জিলহজ মিনায় বড় জামারাকে (শয়তান) কঙ্কর মারা, কোরবানি করা, মাথার চুল ফেলে দেওয়া ৬. ১২ জিলহজের মধ্যে তাওয়াফ জিয়ারত, সাঈ করা ৭. ১১, ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান করা এবং জামারাকে (শয়তান) কঙ্কর মারা ৮. বিদায়ী তাওয়াফ। [সূত্র: হজ মন্ত্রণালয়, সৌদি আরব]

হজ বিষয়ক যেকোনো তথ্যের জন্য যোগাযোগ
হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ : বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এজেন্সিগুলোর সংগঠন হলো হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। হাবের মূল কাজ হলো সৌদি ও বাংলাদেশ সরকারের হজ ও ওমরাহ নীতিমালা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা। হাবের ওয়েবসাইট www.haab-bd.com. ঠিকানা: সাত্তার সেন্টার (১৬তম তলা), হোটেল ভিক্টোরি, ৩০/এ নয়াপল্টন, ভিআইপি রোড, ঢাকা।

হজ ক্যাম্প : পরিচালক, হজ অফিস, আশকোনা, উত্তরা, ঢাকা (ফোন: ৮৯৫৮৪৬২ ও ৭৯১২৩৯১) এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে (ফোন: ৯৫৭৬৩৪৯, ৯৫১২২৩৯, ৯৫১২২৩৮, ৭১৬০৩৯৭)যোগাযোগ করে যেকোনো তথ্য নিতে পারেন। এ ছাড়া প্রতিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়,জেলার উপপরিচালক এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

গ্রন্থনা : মাওলানা মিরাজ রহমান; ইমেইল : mirajrahmanbd@gmail.com

Category: হজ্জ