ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

কীভাবে বাঁধবেন হজের ইহরাম

সেলাইবিহীন চাদর-লুঙ্গি পরিধান করে তালবিয়াহ্ পরাকে শরিয়তের পরিভাষায় ইহরাম বলা হয়। পুরুষ হাজীদের জন্য এই বিধান পালন করা ওয়াজিব। অবশ্য মহিলা হজ পালনকারীদের জন্য সেলাইবিহীন কাপড় পরিধানের বিষয়টি জরুরি নয়। শরিয়া বিধান অনুযায়ী তারা যে কোনো পোশাক পরিধান ও ব্যবহার করতে পারবে।

হজ পালনকারীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে ইহরাম বাঁধা যেমন জরুরি একটি বিষয়, ঠিক তেমনি ইহরাম বাঁধার জন্য রয়েছে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা।

হজ পালনকারীকে এ সময়ের প্রতিও বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে। আরবি শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখ থেকে জিলহজ মাসের ৯ তারিখের সূর্যোদয়ের পূর্বক্ষণ পর্যন্ত ইহরাম বাঁধার নির্দিষ্ট সময়। কোনো ব্যক্তি শাওয়াল মাসের আগে কিংবা জিলহজ মাসের ৯ তারিখের পর হজের উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধলে তার হজ সহিহ হবে না। হ্যাঁ এই ইহরামের দ্বারা তার ওমরাহ পালিত হবে। কেননা ওমরার ইহরাম বছরের যে কোনো সময় বাঁধা জায়েজ।

হজ পালনকারীরা কোন স্থান থেকে ইহরাম বেঁধে হজ পালন করবে এ সম্পর্কে স্বয়ং রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নির্দেশিত ইহরাম বাঁধার স্থান বা মীকাত হলো নিম্নরূপ:

মিসর, সিরিয়া এবং মরক্কোর অধিবাসীদের জন্য মিকাত হলো সৌদি আরবের উত্তর পূর্বকোণে অবস্থিত ‘আল-জুহ্ফা’ নামক স্থান। বর্তমানে এ স্থানটি ‘রাবেগ’ নামে খ্যাত।
মদিনার অধিবাসীদের জন্য মিকাত হলো, ‘যুল হোলায়ফা’ নামক স্থান। যা বর্তমানে ‘আবয়ারে আলী’ নামে খ্যাত। ইরাক অধিবাসীদের মীকাত বা ইহরাম বাঁধার স্থান হলো মক্কা মুকাররমার উত্তর-পূর্বকোণে অবস্থিত, ‘যাতে ইরক’ নামক স্থান।
সৌদি আরবের পূর্ব এবং মধ্যবর্তী অঞ্চলসহ কুয়েত অধিবাসীদের জন্য ‘কস্ফরনূল মানাযিল’। যা ঐতিহাসিক ও সুপ্রসিদ্ধ ‘আস্সাইল’ নামক স্থানের খুব নিকটই অবস্থিত। ইয়ামেন, হিন্দুস্তান, বাংলাদেশসহ এতদঞ্চলের অন্যান্য দেশের হাজীদের ইহরাম বাঁধার স্থান হলো ‘ইয়ালামলাম’। এটি মূলত মক্কার দক্ষিণে অবস্থিত একটি পাহাড়ের নাম।

এছাড়া অন্যান্য স্থান থেকে আগত হাজীরা বর্ণিত মীকাতগুলোর অনুসরণে নিজের মীকাত নির্দিষ্ট করে নেবে। ইহরাম না বেঁধে উল্লিখিত স্থানগুলো অতিক্রম করা নাজায়েজ। অতিক্রমকারী হজের সফর বিমান, নৌ-জাহাজ বা অন্য যে কোনো আরোহণেই অতিক্রম করুক না কেন, এতে শরীয়তের বিধানের কোনো হেরফের হবে না।
অবশ্য হজের সফরে কোনো ব্যক্তি রওজা শরিফ জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সরাসরি মদিনায় চলে আসলে তার জন্য ইহরাম বাঁধা জরুরি নয়। কিন্তু মদিনা জিয়ারত শেষে মক্কায় প্রবেশের আগে যুল হোলায়ফা থেকে তাকে অবশ্যই ইহরাম বাঁধতে হবে।

যেসব মক্কা অধিবাসী উল্লিখিত স্থানের অভ্যন্তরে স্থায়ীভাবে বসবাস করে তারা নিজ বাড়ি থেকেই ইহরাম বেঁধে বের হবে। হজ অথবা ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধার সঙ্গে সঙ্গে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো হারাম হয়ে যাবে।

এক. বিবাহ শাদী এবং এতদসংক্রান্ত স্বামী-স্ত্রীর মেলামেশার সম্পর্ক।
দুই. সেলাইকৃত কাপড় পরিধান। (পুরুষদের জন্য)
তিন. মাথা ঢেকে রাখা, (পুরুষদের জন্য)
চার. কোনো শিকারি প্রাণী ধরা। কিংবা ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে হারাম শরিফের কোনো বৃক্ষ অথবা ঘাস কাটা।
পাঁচ. অবশ্য শুকনো তরুলতা, ঘাস, ফসলাদি কিংবা ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের জন্য গাছপালা উপড়ানো জায়েজ আছে।
ছয়. মাথা মুণ্ডানো, সুগন্ধি ব্যবহার, নখ কাটা। তবে দেহ মাথা পানি দ্বারা ধৌত করা সুগন্ধিবিহীন সাবান ব্যবহার করা কোনো দোষণীয় নয়। উল্লিখিত হারাম বিষয়গুলোর সঙ্গে জড়িয়ে গেলে শরীয়তে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফিদইয়া ইত্যাদি আদায় করা ওয়াজিব

Category: হজ্জ