ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

হজ একটি মৌলিক ইবাদত

চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে চলতি (১৪৩৫ হিজরি বা ২০১৪ ইং) বছরের ৪ বা ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফরজ ইবাদত হজ। সৌদি সরকারের সাথে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে এবার ১ লাখ এক হাজার ৭৫৮ জন ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজ পালন করার সুযোগ পাবেন, যা গত বছরের চুক্তির চেয়ে ২৫ হাজার ৪৪০ জন কম। গত বছর সৌদি সরকারের সাথে চুক্তি অনুযায়ী ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজে যাওয়ার চুক্তি হলেও বাস্তবে হজে গিয়েছিলেন ৮৭ হাজার ১২৬ জন।

অর্থাৎ চুক্তির চেয়ে ৪০ হাজারেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজে যেতে পারেননি। কারণ দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, কথিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার দাবিতে বিরোধী দলের আন্দোলন, সরকারের দমন-পীড়ন ও বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলাসহ বিভিন্ন কারণে গত বছর সৌদি সরকারের সাথে চুক্তির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজে যেতে পারেননি। সরকারবিরোধী আন্দোলনের মামলার কারণে অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজে যাওয়ার জন্য তাদের পাসপোর্ট করতে পারেননি। আর যাদের পাসপোর্ট ছিল তাদের মধ্যেও অনেকেই মামলার কারণে পুলিশ কিয়ারেন্স বা পুলিশ ছাড়পত্র পাননি বলে তারাও হজে যেতে পারেননি।

ইতোমধ্যে সরকার (১৪৩৫ হিজরির বা ২০১৪ সালের) হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এবারের হজের জন্য সর্বনি¤œ খরচ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৫ হাজার ৭৭৬ টাকা, যা গত বছরের খরচের চেয়ে প্রায় ১৭ হাজার টাকা বেশি। গত বছর যেসব কারণে হজে গমনকারীদের সংখ্যা কমে গিয়েছিল তার সাথে যুক্ত হচ্ছে মানুষের ওপর বাড়তি খরচের চাপ, যার ফলে এবারের হজযাত্রীর সংখ্যা আরো কমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে অভিজ্ঞজনেরা মনে করছেন। কারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আয়ের সাথে ব্যয় সঙ্কুলান হচ্ছে না বলে অনেকেই অভিযোগ করছেন।

তারপরও যারা হজ করতে চাচ্ছেন তাদেরকে এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রস্তুতির জন্য এখনই আপনার পাসপোর্ট সংগ্রহ করা প্রয়োজন। আপনি আপনার জেলা সদরে অথবা নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করে এখনই এ কাজটি সম্পন্ন করুন। হজে যেতে হলে আপনার মক্কা-মদিনা আসা-যাওয়া, থাকা-খাওয়ার জন্য যে পরিমাণ টাকা প্রয়োজন তা সংগ্রহে রাখুন। বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির সাথে হজ করার চেষ্টা করুন। হজ সম্পর্কে জরুরি মাসয়ালা-মাসায়েলগুলো জেনে নিন।

রাসূল সা: বলেছেন, ‘ইসলামের মূল ভিত্তি পাঁচটি ১. ঈমান, ২. সালাত, ৩. জাকাত, ৪. হজ ও ৫. সওম।’ (বুখারি ও মুসলিম)।

  • হজ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ হচ্ছে, ‘আর তোমরা আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য হজ ও ওমরা পালন করো।’ (সূরা বাকারা : ১৯৬)।
  • আর যে ব্যক্তির ঐ ঘর (কা’বা) পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য আছে, সে যেন এই ঘরের (মালিকের উদ্দেশ্যে) হজ আদায় করে, আর যদি কেউ এই বিধান অস্বীকার করে, তার জেনে রাখা উচিত আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিকুলের মোটেও মুখাপেী নন।’ (সূরা আলে ইমরান : ৯৭)।
  • হজরত আলী রা: থেকে বর্ণিত, রাসূল সা: বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি মহান আল্লাহ তায়ালার ঘর পর্যন্ত পৌঁছার মতো শক্তি-সামর্থ্য থাকার পরও যদি হজ পালন না করে তবে সে ইহুদি বা নাসারা হয়ে মৃত্যূবরণ করুক, তাতে আল্লাহ তায়ালার কোনো পরওয়া নেই’(তিরমিজি)।
  • উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা রা: থেকে বার্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সা:কে বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমরা নারীরা কি আপনার সাথে জিহাদে শরিক হবো না?’ রাসূল সা: বললেন, ‘তোমাদের জন্য সর্বাপো সুন্দর ও উত্তম জিহাদ হলো মাবরুর হজ।’ (বুখারি)।

হজের ফজিলত : আবদুল্লাহ ইবনে মাসুদ রা: বলেন, রাসূল সা: বলেছেন, হজ ও ওমরাহ একসাথে করো; কেননা হজ ও ওমরা দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে; যেভাবে হাপর লোহা ও সোনা-রুপার ময়লা দূর করে আর মকবুল হজের বিনিময় জান্নাত ব্যতীত অন্য কিছু নয়।’ (নাসাই ও তিরমিজি)।

রাসূল সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি (হক আদায় করে) হজ সম্পাদন করল আর কোনো পাপ কাজে লিপ্ত হলো না, সে যেন সদ্যপ্রসূত নিষ্পাপ শিশুর মতো পবিত্র।’ (বুখারি ও মুসলিম)।

রাসূল সা: বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা আরাফাতের দিন সব আসমানবাসীদের ডেকে বলেন, ‘হে ফেরেশতাগণ! তোমরা দেখো, আমার বান্দাগণ কিভাবে দূর দেশ থেকে এসে অদ্যকার আরাফাতের ময়দানে ধুলোবালুর সাথে মিলিত হয়েছে; তোমরা সাী থেকো, যারা আমার ঘর জিয়ারত করতে এসে এত কষ্ট স্বীকার করছে, নিশ্চয়ই আমি তাদের সকল গুনাহ মাফ করে দিলাম।’ (বুখারি ও মুসলিম)।

হজ হচ্ছে প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তির জন্য একটি সার্বিক ইবাদত। সালাত মুমিন ব্যক্তিকে পবিত্র করে, জাকাত মুমিন ব্যক্তির সম্পদ বৃদ্ধি ও পবিত্র করে, সিয়াম বা সওম (রোজা) মুমিন ব্যক্তির মধ্যে আল্লাহভীতি পয়দা করে, আর হজ মুমিন ব্যক্তির সাথে আল্লাহর সম্পর্ক বৃদ্ধি করে। অতএব যে ব্যক্তির ওপর যখনই হজ ফরজ হবে সে ব্যক্তির দায়িত্ব হচ্ছে তখনই হজ পালন করা।

হজ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ আর এত ফজিলতের পর আমরা কোনো অজুহাতেই হজ আদায় থেকে বিরত থাকতে পারি না। হজ ফরজ হওয়ার শর্ত হচ্ছে, ১. শারীরিক সুস্থতা, ২. আর্থিক সঙ্গতি অর্থাৎ কাবাঘর পর্যন্ত যাওয়া-আসার মতো অর্থ বা টাকা থাকা, ৩. নিরাপদ ভ্রমণ অর্থাৎ যাওয়া-আসার পথে কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা না থাকা ও ৪. পরিবার-পরিজন অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানসহ নিরাপদ থাকা।

আমাদের সমাজে এমন অনেক লোক আছেন যার ওপর উপরিউক্ত শর্তের আলোকে হজ ফরজ হয়েছে; কিন্তু তিনি বিভিন্ন অজুহাতে হজ আদায় করছেন না। যেমন, ছেলেমেয়ের বিয়ে বাকি আছে, চাকরির বয়স আছে, চাকরি শেষে এলপিআরে গেলে হজে যাবো, বাড়ির কাজ এখনো শেষ হয়নি, ব্যবসায়টা আর একটু গুছিয়ে নিই ইত্যাদি কারণ দেখিয়ে সময় নষ্ট করছেন। অথচ যেদিন থেকে যার ওপর যে কাজ বা আমল ফরজ হবে সেদিন থেকেই সেই আমল বা কাজ সম্পন্ন করা এটাই ঈমানের দাবি।

আমাদেরকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হচ্ছে হালাল উপার্জন। সুদ, ঘুষ আর প্রতারণার অর্থ বা টাকা দিয়ে হজ করার চেয়ে না করাই উত্তম। নামের আগে হাজী লেখার জন্য হজ নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হজ আদায় করতে হবে।

আসুন হজ সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে কিছু জরুরি কথা জেনে নিই।
হজ তিন প্রকার। (১) হজে তামাত্তু, (২) হজে ক্বিরান ও (৩) হজে ইফরাদ।

হজে তামাত্তু : হজের সফরে মিকাত থেকে ইহরাম ও নিয়ত করে প্রথমে ওমরাহ আদায় করার পর ইহরাম খুলে ফেলা ও ৮ জিলহজ তারিখে পুনরায় হজের জন্য ইহরাম বাঁধা ও নিয়ত করার নাম হচ্ছে ‘হজে তামাত্তু’।

হজে ক্বিরান : হজের সফরে মিকাত থেকে একই ইহরাম ও নিয়তে হজ ও ওমরাহ পালন করা হচ্ছে ‘হজে ক্বিরান’।

হজে ইফরাদ : হজের সফরে মিকাত থেকে শুধু হজের জন্য ইহরাম ও নিয়ত করার নাম হচ্ছে ‘হজে ইফরাদ’।

মনে রাখতে হবে, হজে তামাত্তু ও হজে ক্বিরানের জন্য ওমরা ওয়াজিব। ওমরার ফরজ তিনটি, (১) ইহরাম বাঁধা ও নিয়ত করা, (২) কাবা শরিফ (সাত চক্কর) তাওয়াফ করা, (৩) সাফা-মারওয়া (সাত চক্কর) সায়ি করা।

ওমরার ওয়াজিব হচ্ছে তিনটি, (১) মিকাত থেকে ওমরার জন্য ইহরাম বাঁধা, (২) মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করার পর ইহরাম থেকে হালাল হওয়া, (৩) আমলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

হজের ফরজ চারটি। (১) মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধা ও নিয়ত করা, (২) আরাফার ময়দানে ৯ জিলহজ তারিখের শেষ বেলা কিছু সময় অবস্থান করা, (৩) তাওয়াফে এজাফা (কাবাঘর সাত চক্করের সাথে তাওয়াফ) করা ও (৪) নির্ধারিত তারিখ, সময়ে ও স্থানে ধারাবাহিকভাবে কর্ম সম্পাদন করা।

হজের ওয়াজিব ৯টি। (১) তাওয়াফে কুদুম করা। অর্থাৎ মক্কার বাইরের লোকদের জন্য মক্কায় প্রবেশের পর সর্বপ্রথম কাবা শরিফ (সাত চক্করের সাথে) তাওয়াফ করা, (২) সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা, (৩) মুজদালিফায় রাত যাপন করা, (৪) কোরবানির দিনগুলোতে (১১ ও ১২ জিলহজ) মিনায় রাত যাপন করা, (৫) জামারাতগুলোতে (শয়তানের প্রতিকৃতি) পাথর নিপে করা, (৬) সাফা-মারওয়া (সাত চক্করের সাথে) সায়ি করা, (৭) মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছোট করা, (৮) তামাত্তু ও ক্বিরান হাজীদের জন্য কোরবানি করা অথবা নিষিদ্ধ দিনগুলো ছাড়া ১০টি রোজা পালন করা, (৯) মক্কার বাইরের লোকদের জন্য (সাত চক্করের সাথে) বিদায়ী তাওয়াফ করা।

হজ ও ওমরায় তাওয়াফের সময় প্রথম তিন চক্করে রমল করা বা দ্রুত হাঁটা সুন্নত। কারণ রাসূল সা: এমনটি করেছেন। তবে রোকনে ইয়ামানি থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত স্বাভাবিক গতিতে হাঁটতেন আর এ সময় রাসূল সা: পাঠ করতেন, ‘রাব্বানা আতিনা ফিদদুনিয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়াকিনা আজাবান্নার, ওয়াদখিলনাল জান্নাতা মা’আল আবরার। অর্থ- ‘হে আমাদের প্রতিপালক তুমি আমাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ দান করো, আর আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রা করো, আর তুমি আমাদেরকে উত্তম জ্ন্নাাত দান করো। বাকি চার চক্কর স্বাভাবিক গতিতে হাঁটতে হবে, আর যে যার মতো যত খুশি দোয়া বা কুরআন তেলওয়াত করতে পারেন। কাবা শরিফ তাওয়াফের জন্য নির্ধারিত বিশেষ কোনো দোয়া নেই।

বেশি বেশি তালবিয়াহ পড়া সুন্নত, কারণ রাসূল সা:ও বেশি বেশি তালবিয়া পাঠ করতেন। ‘লাব্বাইকা আললাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা-শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকাওয়াল মুলক্ লা-শারিকা লাকা।

হজ ও ওমরার জন্য বিশেষ কোনো নিয়ত বা দোয়া নেই। মনে মনে হজ ও ওমরার পরিকল্পনা করার নামই হচ্ছে নিয়ত। তাওয়াফের সময় বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করা যেতে পারে অথবা আমরা যে যত দোয়া পারি তা পাঠ করতে পারি। তবে রুকনে ইয়ামানি (কাবাঘরের দণি-পশ্চিম কোণ) থেকে হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে রাসূল সা: যে দোয়া পাঠ করতেন তা হচ্ছে, ‘রাব্বানা আতিনা ফিদদুনিয়া হাসানাতাও ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাতা ওয়াকিনা আজাবান্নার’। অর্থ- ‘হে আমাদের প্রতিপালক তুমি আমাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ দান করো, আর আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রা করো।’(সূরা বাকারা : ২০১)।

আরাফার ময়দানে পড়ার জন্য সর্বোত্তম দোয়া হচ্ছে, ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকালাহু, লাহুল মুলক্, ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি সাইয়িন কাদির’। অর্থ- আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই, বিশ্ব চরাচরের তিনিই মালিক, সমস্ত প্রশংসা তাঁরই জন্য, তিনি সকল কিছুর ওপর পরাক্রমশালী।

হজের দিনগুলোতে আমাদের করণীয়

  • ৮ জিলহজ সূর্যোদয়ের পর ইহরাম অবস্থায় মিনার উদ্দেশে রওনা করতে হবে। মিনায় কসরসহ জোহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও ফজরের সালাত জামাতের সাথে আদায়ের চেষ্টা করতে হবে।
  • ৯ জিলহজ ফজরের পর আরাফার উদ্দেশে রওনা করতে হবে। আরাফার ময়দানে জমা হয়ে জোহর ও আসরের সালাত কসরসহ জামাতের সাথে আদায় করতে হবে। সুর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফার ময়দানে অবস্থান করে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা করতে হবে। মনে রাখবেন সুর্যাস্তের পর ১০ জিলহজ শুরু হয়ে যাবে।
  • ১০ জিলহজ মুজদালিফায় পৌঁছার পর এক ইকামতে মাগরিব ও এশার সালাত কসরসহ আদায় করতে হবে। সেখানে রাত যাপনের পর ফজরের সালাত জামাতের সাথে আদায় করে সূর্যোদয়ের পর মিনার উদ্দেশে রওনা করতে হবে। মিনায় পৌঁছে ওই দিন শুধু বড় জামরায় (শয়তানের প্রতিকৃতিতে) সাতটি পাথর নিপে করতে হবে। পাথর নিেেপর পর তামাত্তু ও ক্বিরান হাজীরা অবশ্যই কোরবানি করবেন। অথবা কোরবানি ও তাকবিরে তাশরিকের দিনগুলো ব্যতীত হজের আগে-পরে ১০টি রোজা পালন করতে হবে। কোরবানির পর মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করে ইহরাম খুলে ফেলতে পারেন। সম্ভব হলে ওই দিন কাবা শরিফে যেয়ে তাওয়াফে এজাফা (হজের জন্য ফরজ তাওয়াফ) করে নিতে পারেন। হজের আগে তাওয়াফে কুদুম না করলে ওই দিন সম্ভব হলে হজের জন্য সাফা-মারওয়া সায়ি করতে পারেন। অতঃপর ১০ জিলহজ দিবাগত মাগরিবের আগে মিনায় ফিরে আসতে হবে।
  • ১১ জিলহজ দ্বিপ্রহরের পর ছোট থেকে বড় তিন জামরায় (শয়তানের প্রতিকৃতিতে) সাতটি করে মোট ২১টি পাথর নিপে করতে হবে।
  • ১২ জিলহজ আবারো একইভাবে ছোট থেকে বড় তিন জামরায় (শয়তানের প্রতিকৃতিতে) পাথর নিপে করতে হবে। আর ওই দিন সুর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করতে হবে। তা না হলে ১৩ তারিখ তিন জামরায় আবারো সাতটি করে ২১টি পাথর নিপে করতে হবে।
  • ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত কোরবানি করা যাবে আর এ সময় থেকে তাকবিরে তাশরিক পাঠ করাও বন্ধ করতে হবে। মনে রাখতে হবে বছরে পাঁচ দিন রোজা পালন করা হারাম। যথা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, ঈদুল আজহার পরের তিন দিন অর্থাৎ ১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ।
Category: হজ্জ