ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

১০ বছরের সঞ্চয়ে হজ করছেন উগান্ডান নারী

দীর্ঘ ১০ বছরের সঞ্চয়। স্মোকড ফিশের (ধূমায়িত মাছ) ব্যবসা করে দিনই চলে না। কিন্তু হজ করার সংকল্প তাকে ওই সামান্য আয় থেকেই সঞ্চয়ে উদ্ধুদ্ধ করেছে। আর তা দিয়েই এবার পবিত্র হজ করছেন উগান্ডার নারী।

৫৮ বছরের কাসিফাহ নানকুম্বা আনাদুলু সংবাদ সংস্থাকে বলেন, ‘মক্কায় যাওয়া, নবিজির রওজা দেখা, আরাফাতের ময়দানে হাজির হওয়া আর জমজমের পানি পানের অপেক্ষা আর সইছে না। আমি এখন এত উদ্দীপ্ত যে মনে হচ্ছে ফিটই হয়ে যাব।’

২৮ বছর ধরে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালার কাছে কালেরবি বাজারে স্মোকড ফিশের ব্যবসা করছেন কাসিফাহ। হজের জন্য সঞ্চয় শুরুর দিনের কথা এখনো মনে আছে তার। সেটা ২০০৬ সালের কথা। তিনি বাজারে বসেছিলেন। হঠাৎ হজ করার স্বপ্ন দেখলেন।

তিনি জানান, ‘তখন কিন্তু আমার হাতে একটা পয়সাও ছিল না। তা-ই মাথা থেকে হজের কথাটা ঝেড়ে ফেলতে চাইলাম।’ কিন্তু না। কয়েক দিন পর এমন একজনের সংস্পর্শে এলেন, যার ফলে হজ করার স্বপ্ন আরো জোরালো হলো। ওই লোক মক্কায় হজযাত্রীদের সহায়তার কাজ করেন।

হাজি মুসা নামের ওই লোকটি মিতায়ানা হিজ্জা ও উমরা ট্যুর এজেন্সির ম্যানেজারের সাথে তার পরিচয় করে দেন। তিনিই তাকে সঞ্চয়ের পরামর্শ দেন।তখন থেকেই তিনি একটু একটু করে সঞ্চয় করে মার্কিন ডলার কিনতে থাকেন। তিনি জানান, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি প্রতিবার ৪ থেকে ৫ ডলার করে সঞ্চয় করতেন। খুব কম, কিন্তু তবুও জমা হচ্ছিল।

২০০৯ সালে তিনি হাজিদের স্পন্সর করে এমন এক ব্যক্তির নাম শুনলেন। দুই দিন পর হাজি কাজুমবির কাছে হাজির হলেন তিন।তিনি তার কাছে তার সবকথা খুলে বললেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি তাকে সাহায্য করতে পারলেন না। তিনি তাকে তার ডলারের হিসাব দেখালেন। তিনি বললেন, তাকে আরো জমাতে হবে।

এভাবে করতে করতে ২০১৫ সালের ১৫ জুন তিনি হিজা অফিসের ম্যানেজারের কাছ থেকে ফোন পেলেন : ‘হাজ্জাতি কাসিফাহ, আপনি যে অর্থ সঞ্চয় করেছেন, তা এবার হজ করার জন্য যথেষ্ট।’
তিনি ওয়ানদেগেয়া মসজিদে আনন্দে নেচে ওঠলেন। সেখানেই তিনি হজের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

Category: হজ্জ