ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

আল্লাহর প্রিয় স্থান

আল্লাহর প্রিয় স্থানআল্লাহ পাক বলেন, ‘আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান আনয়নকারীরাই আল্লাহর মসজিদসমূহ সরগরম রাখে’ (সূরা তওবা : ১৮)। রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি মসজিদ নির্মাণ করবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন’ (বুখারি, মুসলিম ওসমান রা:)।

মসজিদ মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্রতম স্থান, যাকে কেন্দ্র করে গোটা মুসলিম সমাজ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত।

রাসূল সা: ও তাঁর পরবর্তী যুগে তাই হতো। কিন্তু বর্তমান যুগে সেই চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। বর্তমানে এমন একটা অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে, কোনো রকমে নামাজ শেষ করলেই হয়, আর অন্য কোনো দ্বীনি কাজ মসজিদে করা যাবে না। (নাউজুবিলাহ)।

কিন্তু রাসূল সা: ও খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে মসজিদ ছিল সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রস্থল, আইন-আদালত, প্রশিণকেন্দ্র, বিয়েশাদি সব কিছুর কেন্দ্রস্থল। অর্থাৎ মসজিদ ছাড়া ইসলামী জনপদের কল্পনাই করা যেত না। মসজিদ শুধু নামাজের স্থান ছিল না, তৎকালীন সমাজব্যবস্থার সব কর্মকাণ্ড ও সব তৎপরতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল মসজিদ। তাই রাসূল সা: মদিনায় পৌঁছার পরপরই মসজিদ তৈরির কাজে হাত দেন। এমনকি তিনি নিজ হাতে পাথর বহন করে মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। তাই মসজিদ হলো আমাদের জাতি গঠনের কেন্দ্রবিন্দু এবং সব সমস্যার সমাধানস্থল।

মসজিদ হতে পারে সুস্থ সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। আর এগুলোর সব কিছুর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো মসজিদে নববী। মসজিদে নববী ছাড়াও অনেক মসজিদ আছে, যেগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব খুবই বেশি। যেমন মসজিদে জুমুআ, যেখানে রাসূল সা: সর্বপ্রথম জুমার নামাজ আদায় করেছিলেন। মসজিদে গামামা যেখানে রাসূল সা: দুই ঈদের নামাজ আদায় করতেন। কুবার মসজিদ, এ মসজিদে রাসূল সা: প্রতি শনিবার নামাজ আদায় করতেন। এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব খুবই বেশি। মসজিদে সুরাইয়া এ মসজিদে রাসূল সা: নামাজ আদায় করে মদিনাবাসীর জন্য রহমতের দোয়া করেছিলেন। মসজিদে ফাতহ বা বিজয়ের মসজিদ। মসজিদে জুুবাব, খন্দকের যুদ্ধ চলাকালে রাসূল সা:-এর তাঁবু টানানো হয়েছিল এবং তিনি এখানে নামাজ আদায় করেছিলেন। এ ছাড়াও আর আছে মসজিদে কিবলাতাইন, মসজিদুল কামিহ, মসজিদে বনু কুরায়জা, মসজিদুল ইজাবা, মসজিদে সাজদ, মসজিদে উবাই, মসজিদে বারাখ, মসজিদে আলী, মসজিদে ইবরাহিম ইত্যাদি।

মসজিদের মাধ্যমে আমরা পারিবারিক ও সামাজিক অবয় রোধ করতে পারি। সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করতে পারি। অর্থনৈতিক প্রয়োজনে, আধ্যাত্মিক প্রয়োজনে, রাষ্ট্রনীতিতে মসজিদের গুরুত্ব ব্যাপক।

মসজিদে নামাজের মাধ্যমে পরস্পরকে জানার একটা সুযোগ তো আছেই, তার পরেও একজন আরেকজনের সুখদুঃখ ও প্রয়োজনে এগিয়ে আসতে পারে। একজন আরেকজনের কুশলাদি জানতে পারে।

রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘পূর্ণ জ্যোতির সুসংবাদ দাও তাদেরকে যারা অন্ধকারে মসজিদে যায়।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি,ইবনে মাজাহ) আল্লাহর কাছে সর্বাপো প্রিয় স্থান মসজিদসমূহ আর সবচেয়ে ঘৃণ্য স্থান বাজারসমূহ (মুসলিম, আবু হুরায়ারা রা:)।

আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পবিত্র স্থান হলো আল্লাহর ঘর মসজিদ। মসজিদ আমাদেরকে আদব ও শিষ্টাচার শিা দেয়। মসজিদ আমাদের দায়িত্ব সচেতনতা বৃদ্ধি করে। নবী করিম সা: পেঁয়াজ ও রসুনের দুর্গন্ধ নিয়ে আমাদের মসজিদের আছে আসতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন, ‘যদি তোমাদের তা একান্ত খেতেই হয়, তবে তা রান্না করে দুর্গন্ধ নষ্ট করে দেবে’ (আবু দাউদ-মুয়াবিয়া ইবনে কুররা রা:। যে মসজিদে তার ভাইকে কষ্ট দেবে না সে মসজিদের বাইরেও তার ভাইকে কষ্ট দিতে পারে না। এটা মসজিদে নামাজের শিা। এর দ্বারা বোঝা যায় যে, আমি আমার মুখ, জিহ্বা, হাত দ্বারা অন্য মুসলমান ভাইকে কষ্ট দেবো না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে পড়তে পারলে নিজের চলাফেরা, ওঠানামা ও কথাবার্তার ভেতর কোনো সমস্যা থাকলে অতি সহজেই তা সংশোধন করা যায়। মুসলিম ভ্রাতৃত্ববন্ধনকে আরো শক্ত ও মজবুত করার জন্য মসজিদের কোনো বিকল্প নেই।

হাদিসে রাসূল সা: বলেন, ‘সাত শ্রেণীর লোক আল্লাহর আরশের ছায়া পাবেন যেদিন অন্য কোনো ছায়া থাকবে না। তাদের মধ্যে একজন হবেন ওই ব্যক্তি যার অন্তর সব সময় মসজিদে লটকানো থাকে।’

হুজুর সা: তিনবার বললেন, ‘সাবধান! তোমরা (মসজিদে) বাজারের মতো হইচই করবে না’ (মুসলিম)।

হজরত আবু দারদা রা: বলেন, ‘যখন ধূলিঝড় শুরু হতো তখন রাসূল সা: মসজিদে তাশরিফ নিয়ে যেতেন এবং ঝড় শেষ না হওয়া পর্যন্ত বের হতেন না।’

সুতরাং আমাদের জিন্দেগির সার্বিক কল্যাণের কেন্দ্রবিন্দু মসজিদ। মসজিদ হলো আমাদের জন্য একটা প্রশিণকেন্দ্র। মসজিদে প্রবেশের সময় আদব ও শিষ্টাচারের সাথে প্রবেশ করা উচিত। মসজিদে প্রবেশের সময় প্রথমে ডান পা রাখা উচিত। নবী করিম সা: বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যখন কেউ মসজিদে আসবে সে যেন নবীর ওপর দরুদপাঠায় এবং এ দোয়া করে ‘আয় আল্লাহ, তোমার রহমতের দুয়ার আমার জন্য খুলে দাও’ (সহিহ মুসলিম)।

নবী সা: বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ মসজিদে এলে দুই রাকাত নামাজ না পড়া পর্যন্ত যেন সে না বসে’ (বুখারি, মুসলিম)। সুতরাং আমাদের জন্য মসজিদের গুরুত্ব খুবই বেশি। এক হাদিসে বর্ণিত হইয়াছে, ‘যে ব্যক্তি ঘর থেকে অজুু করে নামাজের উদ্দেশ্যে রওনা হয়, সে যেন এহরাম বেঁধে হজের জন্য রওয়ানা হলো।’

রাসূল সা: বলেন, ‘সকাল-সন্ধ্যায় মসজিদে যাতায়াতকারীদের জন্য আল্লাহ তায়ালা তাদের মেহমানদারির আয়োজন করেন’ (বুখারি, মুসলিম)।

রাসূল সা: আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি ওজু করে নামাজের জন্য মসজিদে যায় তার মসজিদে পৌঁছার পর আল্লাহ এতটা খুশি হন যেমন মুসাফির সফর শেষে বাড়ি ফিরে এলে বাড়ির লোকজন খুশি হয়’ (ইবনে খুজায়মা)।

সুতরাং এর মর্যাদা ও পবিত্রতা রা করার দায়িত্ব আমাদের সবারই। তাই রাসূল সা: বলেন, ‘মসজিদ পরিষ্কার রাখা, পাকসাফ রাখা, আবর্জনা না ফেলা, মসজিদে সুগন্ধির ব্যবস্থা করা, বিশেষ করে জুমার দিন মসজিদ খোশবুতে ভরপুর করা প্রভৃতি কাজ আমাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাবে’ (ইবনে মাজাহ ও তাবারানি)।

মসজিদ হোক আমাদের শিাকেন্দ্র, আমাদের গবেষণাকেন্দ্র। একটা দুর্নীতিমুক্ত, এইডসমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়তে মসজিদের ইমামরাই পারেন সবচেয়ে ভালো ও গ্রহণযোাগ্য পদপে নিতে। আর ঈমামদের হতে হবে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, আপসহীন এবং দ্বীনের সঠিক শিায় শিতি। ঈমামরাই পারেন মানুষকে মসজিদমুখী করতে।

Category: নামাজ