ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

সালাত সব ইবাদতের শিরোমণি

সালাত সব ইবাদতের শিরোমণিআনুষ্ঠানিক ইবাদাতের মধ্যে সালাত সর্বশ্রেষ্ঠ। কিয়ামতের দিন প্রথমেই বান্দাকে সালাত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। কুরআন পাকে বারবার সালাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন ‘অতএব আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করো যখন তোমার সন্ধ্যা হয় এবং যখন তোমার সকাল হয়। আসমান ও জমিনের প্রশংসা শুধু তারই। এবং তার তাসবিহ পাঠ করো তৃতীয় প্রহরে এবং যখন তোমার জোহরের সময় আসে’ সূরা (রুম : ১৭-১৮)।

‘তাসবিহ’ বলতে এখানে সালাতের কথা বলা হয়েছে। হুজুর পাক সা: নামাজকে ইসলামের খুঁটি (পিলার) বলে অভিহিত করেছেন। তিরমিজি  শরিফের হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘হজরত আবদুল্লাহ বিন শফিকুল উকাইলি বর্ণনা করেছেন, রাসূলের সাহাবিগণ নামাজ ব্যতীত অন্য কোনো আমল তরক করাকে কুফরি মনে করতেন না।’

হজরত আবু হুরায়রা রা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি আজান শুনে জামাতে শরিক হয় না, তার কান গলিত সিসা দিয়ে ভরে দেয়াই উত্তম।’ রাসূল সা: বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন বান্দার যে কাজ সম্পর্কে সর্বপ্রথম হিসাব-নিকাশ নেয়া হবে তা হচ্ছে নামাজ।’ হিসাব দিতে সম হলে সে সফল নতুবা ব্যর্থতা অবধারিত।

ইবনে সীরিন রহ: বলেন, ‘যদি আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করা এবং দুই রাকাত নামাজ পড়ার মধ্যে অধিকার দেয়া হয়, তবে আমি দুই রাকাত নামাজ পড়াকেই গ্রহণ করব। কেননা জান্নাতে প্রবেশ করা আমার নিজের খুশির জন্য, আর দুই রাকাত নামাজ হলো আমার পালন কর্তা আল্লাহর জন্য।’

হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘তোমরা কি ধারণা করো, যদি তোমাদের কারো বাড়ির সামনে একটি নদী থাকে এবং সে তাতে দৈনিক পাঁচবার গোসল করে, তবে তার দেহে কি কোনো ময়লা থাকবে? সাহাবাগণ বললেন, তার দেহে কোনো ময়লা অবশিষ্ট থাকবে না। তিনি বলেন, এ হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের উপমা। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সাহায্যে আল্লাহ তায়ালা গুনাহগুলো মা করে দেন’ (বুখারি)।

হজরত ইবনে আব্বাস রা: বলেন, ‘নামাজকে নষ্ট করার অর্থ পুরোপুরি বাদ দেয়া বা বর্জন করা নয়, এর অর্থ হলো নির্দিষ্ট সময়ের পরে পড়া। নামাজ ব্যক্তি, সমাজ বা রাষ্ট্রীয় জীবনে কায়েম না করা বা কাজা করা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে জামাতে শরিক না হওয়া। হজরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব বলেন, এর অর্থ পরবর্তী নামাজের সময় না আসা পর্যন্ত নামাজ বিলম্বিত করা। এটি করতে সে অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং এ অভ্যাসের ওপর তাওবা না করেই মারা যায় আল্লাহ তাকে ‘গায়’ নামক স্থানে নিেেপর হুমকি দিয়েছেন।’

এটি দোজখের একটা কঠিন ও ভয়ঙ্কর জায়গা। আরেকটি আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘সেই সব নামাজির জন্য ওয়াইল যারা নিজেদের নামাজের ব্যাপারে শিথিল’। অর্থাৎ আলসেমি ও গড়িমসি করে এবং ইচ্ছাকৃত জামাত ত্যাগ করে। হজরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রা: বলেন, ‘আমি রাসূল সা:-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এই শিথিলতা কী? তিনি বললেন নির্দিষ্ট সময় থেকে দেরিতে নামাজ পড়া।

নবী করিম সা: বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি শরিয়তসম্মত ওজর ব্যতীত দুই ওয়াক্ত নামাজ একসাথে পড়ল, সে কবিরা গোনাহের দরজাগুলোর মধ্য থেকে একটাতে প্রবেশ করল’ (তিরমিজি)। রাসূল সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে নামাজ ত্যাগ করল সে কুফরি করল।’ আরেকটি হাদিসে এসেছে ‘কাফির ও মুসলমানের পার্থক্য হলো নামাজ’।

জাহান্নামবাসী সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘জান্নাতবাসী তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবে, কোন কারণে তোমরা দোজখে গেলে? তারা জবাব দেবে আমরা নামাজ আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না।’ রাসূল সা: বলেছেন, ‘অমুসলিমদের ও আমাদের মাঝে যে অঙ্গীকার তা হচ্ছে নামাজসংক্রান্ত।’ নামাজকে যে ইচ্ছাকৃত ভাবে ত্যাগ করল, সে কাফের।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘বান্দার ও তার কাফের হওয়ার মাঝে কেবল নামাজ তরকের ব্যবধান টা কাজ করে।’

বুখারিতে আছে, রাসূল সা: বলেছেন, ‘যার আসরের নামাজ ছুটে যায়, তার সব সৎ কাজ বৃথা হয়ে যায়।’ অপর হাদিসে রাসূল সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ত্যাগ করে, আল্লাহ তার দায়িত্ব থেকে মুক্ত।’ রাসূল সা: বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা ফরমান, আমি আমার বান্দার ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছি এবং নিজেই ওয়াদা করেছি, যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ইহতিমাম করবে আমি নিজ জিম্মাদারিতে তাকে জান্নাতে দাখিল করব। আর যে ব্যক্তি ওই নামাজের ইহতিমাম করবে না, আমার ওপর আর কোনো জিম্মাদারি নেই’ (আবু দাউদ, নাসাঈ)।

হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রা: তাঁর সব প্রাদেশিক গভর্নরকে লিখেছিলেন, ‘তোমাদের সব কাজের মধ্যে আমার কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে নামাজ। যে ব্যক্তি নিজের নামাজের রণাবেণ করতে পারবে এবং তার ওপর বিশেষ দৃষ্টি রাখবে, সে তার গোটা দ্বীনের রণাবেণ করতে পারবে। আর যে ব্যক্তি নামাজের রণাবেণ করতে ব্যর্থ হবে, সে নামাজ ছাড়া অন্যান্য দ্বীনি কাজের রণাবেণে আরো বেশি ব্যর্থ হবে’ (মেশকাত)। হজরত মু’আয রা: বলেন, আমাকে হুজুর সা: ওসিয়ত করেছেন, ‘হে মু’আয ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ নামাজ ত্যাগ করো না; কারণ যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ নামাজ ত্যাগ করে তার প্রতি আল্লাহ তায়ালার কোনো জিম্মাদারি থাকে না।’

হজরত জাবির রা: বলেন, ‘রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, ‘তিনটি গুণ এমন আছে যা কোনো ব্যক্তির মধ্যে পাওয়া গেলে আল্লাহ তায়ালা তাকে নিজ আরশের ছায়ায় স্থান দান করবেন, যে দিন তার ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। তাদের মধ্যে একজন হলো, অন্ধকার রাতে মসজিদে গমনকারী ব্যক্তি অর্থাৎ জামাতের সাথে নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাওয়া।

অন্য হাদিসে রাসূল সা: বলেন, ‘সাত শ্রেণীর লোক আল্লাহর আরশের ছায়া পাবেন যে দিন অন্য কোনো ছায়া থাকবে না। তাদের মধ্যে একজন হবেন ওই ব্যক্তি যার অন্তর সবসময় মসজিদে লটকানো থাকে অর্থাৎ জামাতের সাথে নামাজ পড়ার জন্য সে অপো করে।’

Category: নামাজ